হায়দরাবাদ: কর্তারপুর করিডোর নিয়ে পাকিস্তান ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও, তার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে সার্ক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তান যে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তা সরাসরি প্রত্যাখান করল ভারত।

সার্ক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক। বুধবার হায়দরাবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে সুষমা বলেন, ‘‘আমন্ত্রণ এসেছে। কিন্তু তাতে আমরা সদর্থক সাড়া দিচ্ছি না। ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে পাকিস্তান মদত দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না। আমরা সার্ক সম্মেলনে যোগ দিচ্ছি না।’’

আরও পড়ুন ‘বার্লিন প্রাচীরও একদিন ধ্বংস হয়েছিল,’ কর্তারপুর প্রসঙ্গে মোদী

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পাকিস্তানের নরওয়ালে বুধবারই কর্তারপুর করিডোরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হচ্ছে। ভারত থেকে যোগ দিয়েছেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদল ও হরদীপ সিং পুরি এবং পঞ্জাবের মন্ত্রী নভজ্যোৎ সিংহ সিধু। এই তিন জনকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে কি দ্বিপাক্ষিক আলোচনারই পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে? এই প্রশ্ন করা হলে সুষমা বলেন, ‘‘দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আর কর্তারপুর করিডোর দু’টি আলাদা বিষয়। আমরা খুশি যে দীর্ঘ বছর ধরে ভারত আর্জি জানানোর পর অবশেষে পাকিস্তান কর্তারপুর করিডোর তৈরিতে সদর্থক পদক্ষেপ করছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, এর ভিত্তিতেই পাকিস্তানের সঙ্গে ফের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হবে।’’

পাশাপাশি সুষমা আরও বলেন, “যে দিন থেকে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করবে, সে দিন থেকেই আলোচনা শুরু হতে পারে।”

আরও পড়ুন সার্ক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে প্রধানমন্ত্রীকে, জানাল পাকিস্তান

উল্লেখ্য, শিখদের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র কর্তারপুর দরবার সাহিব গুরুদ্বার। পাকিস্তানের কর্তারপুর থেকে পঞ্জাবের গুরদাসপুরের ডেরা বাবা নানক পর্যন্ত এই করিডোরের কাজ শেষ হবে ২০১৯-এর নভেম্বরে। তার পর থেকে ভারতের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন বিনা ভিসায় এই কর্তারপুরের গুরুদ্বার ভ্রমণ করতে পারবেন।

কর্তারপুর করিডোর তৈরির সঙ্গে বার্লিন প্রাচীর ধ্বংস হওয়ার তুলনা করে মন্তব্য করেছিলেন মোদী।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here