sushma swaraj

ওয়েবডেস্ক: রাজনীতির নিয়মকানুনের চেয়েও মানবিকতাকে বরাবর প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন তিনি। এবং সেই লক্ষ্যে যে অবিচল থাকবেন, সে কথা ফের নতুন করে প্রমাণ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

জানা গিয়েছে, যকৃৎ প্রতিস্থাপনের সমস্যায় ভুগছিলেন পাকিস্তানের শাহজেইব ইকবাল। অস্ত্রোপচারের পরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তার জন্য প্রয়োজন ছিল ভারতে এসে চিকিৎসার। অথচ, ইসলামাবাদ থেকে ভারতে আসার ছাড়পত্র পাচ্ছিলেন না ইকবাল। এদিকে জানিয়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা- দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে তাঁর জীবন সংশয় হতে পারে!

এরকম পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ভাবেই মুষড়ে পড়েছিলেন ইকবালের পরিবারের সদস্যরা। যদিও হাল ছাড়েননি তাঁর তুতো-ভাই শাহজাব ইকবাল। সমস্যার কথা জানিয়ে সুষমা স্বরাজের উদ্দেশে একটি টুইট করেন তিনি। “আল্লার পরে এখন আপনিই আমাদের শেষ ভরসা”, টুইটে লিখেছিলেন ইকবাল।

সাড়া মিলতে দেরিও হয়নি! টুইটটি পড়েই ইকবালকে লেখেন সুষমা, “ভারত আপনার আশা ব্যর্থ হতে দেবে না। যত দ্রুত সম্ভব মেডিক্যাল ভিসার বন্দোবস্ত করা হবে।“ পাশাপাশি সাজিদাকে একটি আলাদা টুইটও করেন তিনি। জানান, “অতি অবশ্যই আপনাকে মেডিক্যাল ভিসা দেওয়া হবে।“

অবশ্য এটাই প্রথম নয়। প্রতিবেশী দেশের মানুষ যখনই বিপদে পড়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর দাক্ষিণ্যেই নয়ডার এক হাসপাতালে যকৃৎ প্রতিস্থাপনের জন্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন পাকিস্তানের কিসওয়ার সুলতানা। মনে পড়তে পারে, সুষমার উদ্যোগেই পাকিস্তানের প্রেমিকাকে বিয়ে করে ঘরে আনতে পেরেছিলেন রাজস্থানের এক যুবক।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসেই ঘোষণা করা হয়েছিল, ভারত সরকার চিকিৎসার জন্য পাকিস্তানিদের সবরকম ভাবে সাহায্য করবে, তাদের মেডিক্যাল ভিসা দেবে। যদিও দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হওয়ায় মে মাসে জানানো হয়েছিল, একমাত্র পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী অনুমোদন দিলে তবেই ভারত মেডিক্যাল ভিসা মঞ্জুর করবে।

যদিও মানবিকতার স্বার্থে ব্যাপারটি অগ্রাহ্য করে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের এক যুবককে ভারতে চিকিৎসার বন্দোবস্ত করে দেন সুষমা। এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, এর জন্য আমার কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই। কেন না, ওটা ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here