T M Krishna
সংগীতশিল্পী টিএম কৃষ্ণ। ছবি দ্য ওয়্যার।

ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণপন্থীরা তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার ট্রোল করছিলেন ‘ভারত-বিরোধী’, ‘শহুরে নকশাল’, ‘রূপান্তরিত ধর্মান্ধ’ ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে। তিনি নাকি শুধুমাত্র ‘জিশু আর আল্লার’ গান করেন। এই ট্রোলের ভয়েই কি তাঁর কনসার্ট থেকে হাত গুটিয়ে নিল ‘এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (এএআই)? প্রশ্ন উঠছে সেটাই। যদিও এএআই সরকারি ভাবে বলছে, তাদের কিছু জরুরি কাজ পড়ে যাওয়ায় তারা কনসার্ট আয়োজন করা থেকে সরে যাচ্ছে। এই বক্তব্যের পরেও কিন্তু ধন্দ কাটছে না। তবে এই ঘটনায় আদৌ বিচলিত নন সংগীতশিল্পী টিএম কৃষ্ণ। তিনি বলেছেন, ১৭ নভেম্বর আমাকে দিলিতে যে কোনো জায়গায় মঞ্চ দেওয়া হোক। আমি আসব, গান গাইব। এই ধরনের হুমকির কাছে আমরা ভয়ে গুটিয়ে যাব না।”

সামনের শনিবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে টিএম কৃষ্ণের একটি কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। এএআই এবং সাংস্কৃতিক সংস্থা স্পিক-ম্যাকয়ের যৌথ উদ্যোগে আগামী শনিবার থেকে দিল্লির চাণক্যপুরীর নেহরু পার্কে বসছে দু’ দিনব্যাপী ‘পার্কে নৃত্য ও সংগীত’ (ডান্স অ্যান্ড মিউজিক ইন দ্য পার্ক) উৎসব। সেই উৎসবেই গান গাওয়ার কথা ছিল কৃষ্ণের। গত ৫ নভেম্বর এএআই তাদের টুইটার হ্যান্ডলে এই ঘোষণা করে এবং পরের সপ্তাহেই জানিয়ে দেয় কারা কারা ওই সংগীত উৎসবে যোগ দিচ্ছে। এবং টিএম কৃষ্ণ যে ওই উৎসবে সংগীত পরিবেশন করবেন তা ১০ নভেম্বর তাদের টুইটার হ্যান্ডলে জানিয়ে দেয় এএআই। শহরের বেশ কিছু খবরের কাগজে কৃষ্ণকে নিয়ে বিজ্ঞাপনও বেরোয়।

আরও পড়ুন হংকংয়ের সিএলএসএ জানাল, ২০১৯-এ রাহুল গান্ধীর চাই ১৫০ আসন

তার পর হঠাৎ মঙ্গলবার রাতে স্পিক-ম্যাকয়কে ই-মেল করে এএআই জানায়, কৃষ্ণের কনসার্ট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ই-মেলে বলা হয়, “নয়াদিল্লির নেহরু পার্কে স্পিক-ম্যাকয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ১৭ ও ১৮ নভেম্বর যে নৃত্য ও সংগীত কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে, কিছু জরুরি কাজ পড়ে যাওয়ায় আমরা তাতে থাকতে পারছি না। তাই আমাদের অনুরোধ আসন্ন অনুষ্ঠান স্থগিত রেখে সেইমতো সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে দেওয়া হোক। শীঘ্রই স্পিক-ম্যাকয়ের সঙ্গে আলোচনা করে অনুষ্ঠানের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।”

কৃষ্ণকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এই সরকারি সংস্থা সমালোচনার মুখে পড়েছে বলেই কনসার্ট স্থগিত রাখা হয়েছে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএআই-র চেয়ারম্যান গুরুপ্রসাদ মহাপাত্র। তিনি বলেন, “আমাদের কিছু জরুরি কাজ পড়ে গেছে। ওই দিন আমাদের অবসর নেই। সংবাদ মাধ্যমে যা বলেছি, সেটাই সব। এ ব্যাপারে আমি বেশি কিছু আর বলতে চাই না।”

কৃষ্ণের অনুষ্ঠানের কথা জানিয়ে এএআই যে টুইট করেছিল, সেটি কৃষ্ণ নিজে রি-টুইট করেন। তার পরেই ট্রোল শুরু হয়। কৃষ্ণকে দিয়ে কনসার্ট করানোর জন্য অনেকে এএআইয়ের নিন্দা করেন। টুইটগুলোতে বলা হয়, “যিনি ‘জিশু আর আল্লার’ গান করেন তিনি ‘ভারত-বিরোধী’, তিনি ‘শহুরে নকশাল’, তিনি ‘রূপান্তরিত ধর্মান্ধ’। জনগণের টাকা খরচ করে এই কৃষ্ণকে স্পনসর করছে এএআই।” ওই টুইটগুলোতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, বিমান চলাচল মন্ত্রী সুরেশ প্রভুকে ট্যাগ করে হয়েছে।

আরও পড়ুন বিজেপির রথের আগে তৃণমূলের খোল-করতাল থাকবে: অনুব্রত

কৃষ্ণ জানান, স্পিক-ম্যাকয় তাকে মঙ্গলবার জানিয়েছিল এএআই তাদের বলেছে, তারা টুইটকে কান দেবে না, অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে কনসার্ট চালিয়ে যাবে। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি আমূল পালটে গেল। এএআই জানাল, কনসার্ট স্থগিত রাখা হয়েছে, নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।

ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতপাতের গোঁড়ামি ইত্যাদি বিষয়কে সংবিধান কী চোখে দেখে, সে ব্যাপারে সংগীতের মধ্য দিয়ে তাঁর মত ব্যক্ত করে টিএম কৃষ্ণ হিন্দুত্ব সমর্থকদের চক্ষুশূল হয়েছেন। গত আগস্টে হিন্দুত্ব সমর্থকদের চাপে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের একটি মন্দিরে তাঁর সংগীত আসর বাতিল করা হয়। তবে ওই দিনই ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ক্যামপাসে সংগীত অনুরাগীরা তাঁকে নিয়ে একটি সংগীত আসর বসান। গত জানুয়ারিতে তামিলনাড়ুর তিরুপুরে তাঁর একটি সংগীত অনুষ্ঠান বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল হিন্দুত্বের ধ্বজাধারীরা।

৪২ বছরের টিএম কৃষ্ণকে বর্তমান প্রজন্মের কর্নাটকি সংগীতশিল্পীদের প্রথম সারির একজন বলে গণ্য করা হয়। ম্যাগসেসে পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষ্ণ ‘আ সাদার্ন মিউজিক: দ্য কর্নাটক স্টোরি’ শীর্ষক একটি বইও লিখেছেন।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here