মুম্বই: বাবা রামদেবের পতঞ্জলি যোগপীঠের (একটি জনসেবামূলক ট্রাস্ট) আবেদন মেনে নিল ইনকাম ট্যাক্স অ্যাপেলেট ট্রাইবুনাল। সমস্ত রকম কর থেকে মুক্ত হয়ে গেল ওই প্রতিষ্ঠান।

ট্রাইবুনালের দিল্লি শাখা মেনে নিয়েছে ‘যোগ’ চিকিৎসাগত উপশম দিয়ে থাকে এবং এই প্রতিষ্ঠান যে শিবিরগুলি করে, তাতে শিক্ষা দেওয়া হয়। ‘চিকিৎসাগত উপশম’ এবং ‘শিক্ষাদান’, দুটিই সেবামূলক কাজের মধ্যে পড়ে, তাই আয়কর আইনের ১১ ও ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ওই ট্রাস্টের কর মকুব করে দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ১ এপ্রিল আয়কর আইনে যে সংশোধনী আনা হয়, তাতে যোগাসনকে ‘সেবামূলক উদ্দেশ্য’-র মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পতঞ্জলি যোগপীঠের ২০০৮-০৯ সালের আয় নিয়ে ট্রাইবুনাল বিচার প্রক্রিয়া চালালেও, রায় দিয়েছে নয়া সংশোধনী অনুসারেই। ট্রাইবুনালের নির্দেশে অবশ্য পতঞ্জলি যোগপীঠের মোট আয় নিয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

রামদেবের পতঞ্জলি যোগপীঠ তাদের ‘বাণপ্রস্থ আশ্রম প্রকল্প’-এর জন্য ৪৩.৯৮ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল। তার মধ্যে ছিল জমিও। যার বাজারমূল্য ৬৫ লক্ষ টাকা। ট্রাইবুনাল ওই অনুদানও করযোগ্য নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে। যারা আবাসিক হিসেবে যোগাভ্যাসে শিক্ষিত হতে চান, তাঁদের জন্যই ওই আশ্রম প্রকল্প করা হয়েছিল।

ট্রাস্টের আয়ের সঙ্গে যুক্ত আরও বেশ কয়েকটি বিষয় ট্রাইবুনালের নজরে এনেছিল আয়কর দফতর। তার মধ্যে ছিল ‘বৈদিক সম্প্রচার’ থেকে উপার্জিত ৯৬ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে অন্যতম ট্রাস্টি ও রামদেব-ঘনিষ্ঠ আচার্য বালকৃষ্ণ-র যথেষ্ট স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। বিষয়টি আলোচনা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দিয়েছে ট্রাইবুনাল। তাদের বক্তব্য আয়কর কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো ‘বুঝতে পারেনি’।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here