ওয়েবডেস্ক: উনিশ শতকের শেষ দিকের কথা। ব্রিটিশ রাজদূত এবং পর্যটক এডওয়ার্ড লিয়ার আগ্রার তাজমহল দেখে বলেছিলেন, বিশ্ববাসীকে দু’ভাগে ভাগ করা হোক, যাঁরা তাজমহল দেখেছেন, আর যাঁরা দেখেননি। সেই সপ্তম আশ্চর্যের এক আশ্চর্য তাজমহল ঠাঁই পেল না উত্তরপ্রদেশ পর্যটন দফতরের পুস্তিকায়। মুমতাজের এই স্মৃতিসৌধ বাদ পড়লেও পর্যটন দফতর থেকে প্রকাশিত পুস্তিকার সাম্প্রতিকতম সংস্করণে উল্লেখ রয়েছে সে রাজ্যের বেশির ভাগ দর্শনীয় স্থানের।

সমালোচকদের মাথায় এখন একটাই প্রশ্ন – উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই কি বাদ পড়ল মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য? ঠিক যে কারণে মাস কয়েক আগে বদলে ফেলা হল মুঘলসরাই স্টেশনের নাম! ‘রাম-রাজ্য’ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দু দর্শনীয় স্থান কিন্তু কম-বেশি সবই রয়েছে পুস্তিকায়। বারাণসীর গঙ্গা-আরতি থেকে শুরু করে ইলাহাবাদের কুম্ভমেলা, কিছুই বাদ পড়েনি তাতে। এ কি তবে রাজনীতিতে গেরুয়াকরণের নবতম দৃষ্টান্ত? এমন মনে হওয়াটা খুব অস্বাভাবিকও নয়। বিশেষ করে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যখন দিন কয়েক আগেই মন্তব্য করেছিলেন, রামায়ণ এবং ভগবদগীতাই ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিফলক, তাজমহল কখনোই নয়।

উত্তরপ্রদেশের রাজ্য পর্যটন মন্ত্রী রীতা বহুগুণা অবশ্য সুন্দর ভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন সব বিতর্ক। জানিয়েছেন, বিশ্ববিখ্যাত স্থাপত্য ‘তাজমহল’-এর রক্ষণাবেক্ষণে এবং উন্নয়নে রাজ্য এবং কেন্দ্র যৌথ ভাবেই দায়বদ্ধ।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here