ওয়েবডেস্ক : ১৯৯৭ সাল থেকে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড টুরিজম কর্পোরেশন প্রথম তৎকাল পরিষেবা শুরু করে। প্রথম দিকে কয়েকটা মাত্র ট্রেনের ক্ষেত্রেই এই পরিষেবা দেওয়া হত। পরে অন্যান্য ট্রেনের ক্ষেত্রেও তৎকাল পরিষেবা চালু করা হয়।

তৎকাল টিকিট বুকিং-এর ক্ষেত্রে যাত্রীরা কোনো রকম ছাড়ের সুবিধে ভোগ করতে পারেন না। তা ছাড়া ফার্স্ট এসি ক্লাসের সিটও তৎকালে পাওয়া যায় না।

টিকিট পাওয়ার সময়:

ট্রেন ছাড়ার এক দিন আগে তৎকাল টিকিট পাওয়া যায়। এসি ক্লাসের টিকিট সকাল ১০টা থেকে আর নন এসি ক্লাসের টিকিট সকাল ১১টা থেকে দেওয়া শুরু হয়।

টিকিটের দাম :

সাধারণ টিকিটের থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ দাম বেশি লাগে তৎকাল টিকিটের ক্ষেত্রে। সেকেন্ড ক্লাসে টিকিটের দামের থেকে ১০% বেশি লাগে। আর অন্যান্য ক্লাসের ক্ষেত্রে তা ৩০% বেশি। তবে এই বেশি দামের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা আছে। দ্বিতীয় শ্রেণি (সিটিং)-এর ক্ষেত্রে ১০০ কিমি ভ্রমণে সর্বনিম্ন ১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১৫ টাকা, স্লিপারে ৫০০ কিমি ভ্রমণে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২০০ টাকা, এসি চেয়ার কারে ২৫০ কিমি ভ্রমণে সর্বনিম্ন ১২৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২২৫ টাকা, এসি থ্রি টায়ারে ৫০০ কিমি ভ্রমণে সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা, এসি টু টায়ারে ৫০০ কিমি ভ্রমণে সর্বনিম্ন ৪০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং এক্সিকিউটিভ ক্লাসে ২৫০ কিমি ভ্রমণে সর্বনিম্ন ৪০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বেশি নেওয়া হয়।

টিকিট বাতিল :

অন্যান্য টিকিটের ক্ষেত্রে বুকিং বাতিল করতে হলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। কিন্তু তৎকাল টিকিট বাতিল করলে টাকা ফেরত হয় না। তবে তৎকাল কোটায় আরএসি (রিজার্ভেশন এগেনস্ট ক্যাসেলেসন) ও ওয়েটলিস্টেড টিকিট বুক করা হলে সে ক্ষেত্রে টিকিট বাতিল করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রেও শর্ত হল ট্রেন ছাড়ার ৩০ মিনিট আগে টিকিট বাতিল করতে হবে।

রেলের ওয়েবসাইট অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের থেকে ৩ ঘণ্টা বা তার বেশি দেরিতে ট্রেন ছাড়লে বা ট্রেন বাতিল হলে টাকা ফেরতের উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে টিকিট ডিপোজিট রিসিপ্ট নিতে হবে।

টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কোন কোন ক্ষেত্রে :

  • রেলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যদি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ ঘণ্টা বা তার বেশি দেরিতে ছাড়ে,
  • যদি নির্ধারিত পথে না গিয়ে অন্য পথে ট্রেন যায়, আর সেই পথে যাত্রী যেতে না চাইলে,
  • যদি নির্ধারিত পথে না গিয়ে ট্রেন পথ পরিবর্তন করলে সেই পথে যদি যাত্রীর ওঠার আর নামার স্টেশন না পড়ে তা হলে,
  • যাত্রী যে ক্লাসের টিকিটের ভাড়া দিয়েছেন সেই ক্লাসেরই আসন না পেয়ে তার থেকে কম ভাড়ার আসন পেলে যাত্রী টাকা ফেরত পেতে পারেন।

তৎকাল টিকিট বুকিং-এর নতুন পদ্ধতি :

ই-টিকিট বুকিং-এর সুবিধে এনেছে রেল। তৎকালের ক্ষেত্রেও এই সুবিধে কার্যকর।

ই-টিকিট বুকিং-এর সময় পেলেটার অপশনে ক্লিক করতে হবে। তার পর ই-মেল বা এসএমএসের মাধ্যমে পেমেন্ট লিঙ্ক পাঠানো হবে। ইপেলেটারের মাধ্যমে টাকা জমা করতে চাইলে প্রথমে রেজিস্টার করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে প্রথমে টিকিট কাটতে হয়। পরে টাকা দিতে কয়। সে ক্ষেত্রে ১৪ দিন সময় পাওয়া যায় টাকা জমা করার। তবে ৩.৫০% বেশি চার্জ দিতে হয়, সঙ্গে অন্যান্য করও যুক্ত হয়

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here