মুম্বই: বিজেপি দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে এনসিপির ৫৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। অন্য দিকে শনিবার সন্ধ্যায় ডাকা এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ারের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন ৫২ দলীয় বিধায়ক। সেখানেই রাজভবনের নাটকে যোগ দেওয়া দলের সাত জন বিধায়ক শরদের কাছে ফিরে এসে জানিয়েছেন তাঁদের চমকপ্রদ অভিজ্ঞতার কথা।

শনিবার সকাল আটটায় রাজভবনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার সময় বিদ্রোহী নেতা অজিত পওরের সঙ্গে কমপক্ষে ১১ জন এনসিপি বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। যাইহোক, কয়েক ঘণ্টা পরেই তাঁদের মধ্যে সাতজন জানান, তাঁদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার সময় অন্ধকারে রাখা হয়েছিল এবং পার্টিতে বিভক্তির ব্যাপারে কোনো ধরনের ইঙ্গিতই দেওয়া হয়নি। যদিও সকালে একটি মহল জানিয়েছিল, শপথগ্রহণের সময় আরও এক বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এনসিপি খতিয়ান তুলে ধরে দাবি করে, রাজভবনে যাওয়া বিধায়কের সংখ্যাটি কোনো মতেই ১২ হতে পারে না।

লক্ষণীয় বিষয়, এনসিপি নেতা ধনঞ্জয় মুন্ডে, যাঁর বাড়িতে প্রথমে বিধায়কদের ডেকে আনা হয়েছিল, শনিবার বিকেলে শরদ পওয়ারের সংবাদিক সম্মেলন থেকে প্রথমে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তবে পরে অবশ্য তিনিও বিধায়কদের দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন।

ফিরে আসা সাতজন বিধায়কের বেশিরভাগই জানিয়েছেন, তাঁরা শুক্রবার রাত ১১ টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অজিত অথবা তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর কাছ থেকে ফোন পেয়েছিলেন। তাঁদের বলা হয়, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় মুন্ডের বাংলোয় জরুরি সভায় যোগ দিতে হবে। তাঁরা সেখানে পৌঁছে গেলে তাঁদের জানানো হয়েছিল, সভাটি অন্য কোনো জায়গায় স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। সেখানে যাওয়ার জন্য বাইরে তাঁদের অপেক্ষায় থাকা গাড়িতে বসার কথা বলা হয়। এর পরই তাঁদের সরাসরি রাজভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

Devendra Fadnavis and Ajit Pawar
শনিবার সকালে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেবেন্দ্র ফডনবিস এবং অজিত পওয়ার

এ প্রসঙ্গেই এনসিপির প্রাক্তন মন্ত্রী রাজেন্দ্র শিঙ্গানে বলেন, “যখন আমি রাজভবনে দেবেন্দ্র ফডনবিস-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতাদের দেখি, তখন আমার মনে অন্য রকম অনুভূতি জন্মায়। আমি বুঝতে পারি কিছু ভুল হচ্ছে। তার পরে শপথ গ্রহণ হল। আমাকে প্রতারিত করা হয়েছে বলে আমি বাকরুদ্ধ ও দু:খিত অনুভব করেছি”।

রাজভবনে অজিতের শপথগ্রহণে অংশ নিয়েছিলেন এনসিপি বিধায়ক সন্দীপ ক্ষীরসাগর এবং সুনীল ভুসারা। তাঁদের অভিব্যক্তিও বেশ চমকপ্রদ। ভুসারা বলেন, যখন তিনি বুঝতে পারেন রাজভবনে কী হচ্ছে, তখন তিনি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন।

তাঁর কথায়, “আমি বিজেপির মন্ত্রী বিষ্ণু সাভরের বিরুদ্ধে খুব কঠিন লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলাম এবং আমি অনুভব করেছি যে এই পর্বটি আমার ভাবমূর্তি ও কেরিয়ার নষ্ট করবে। আমি কী ভাবে রাজভবনে পা রেখেছি। আমার বুকে ধড়ফড়ানি বাড়তে লাগল, আমি ভেবেছিলাম আমার হার্ট অ্যাটাক হবে ”।

বিধায়ক সুনীল শালকে বলেন, তিনি প্রথমে ভেবেছিলান ছিলেন, অজিতের পদক্ষেপটি দলীয় অবস্থান থেকেই। অর্থাৎ, দলের নির্দেশের কারণেই তাঁদের রাজভবনে দলের নেতা ডেকেছিলেন। কিন্তু কয়েক মিনিটেই মধ্যেই রহস্য থেকে পরদা সরে যায়। যদিও এনসিপি সুপ্রিমোর কাছে ফিরে এসে তাঁদের একটাই মন্তব্য, মাঝ রাতে ফোন পেয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন রাজভবনে!

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন