telangana govt

ওয়েবডেস্ক: গণতান্ত্রিক দেশে থেকেও কি একনায়কতন্ত্র হওয়ার পথে হাঁটছে তেলঙ্গানা? অন্তত তাদের একটি পদক্ষেপ দেখলে সে রকমই মনে হবে। এই পদক্ষেপের পরে সমস্ত বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে তেলঙ্গানা।

বিরোধিতার স্বর বন্ধ করতে চাওয়া, ভিন্নমত পোষণকারীদের হেনস্থা করা, এ রকম অভিযোগ অনেক শাসকের বিরুদ্ধেই ওঠে। কিন্তু তেলঙ্গানা যা করেছে সম্ভবত আজ পর্যন্ত কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এ রকম হয়েছে কি না সন্দেহ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৬ এবং ৫০৭ ধারায় ঘটা অপরাধকে বিচারযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। অপরাধকারীদের আদালতের অনুমতি ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে।

উল্লেখ্য, একজন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে তা হলে সেটা ৫০৬ ধারাভুক্ত এবং অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া, চিঠি এবং ইমেলের মাধ্যমে যদি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে তা হলে সেটা ৫০৭ ধারাভুক্ত।

তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন থেকে কেউ যদি অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কুকথা বা ভীতি প্রদর্শন করে তা হলে সেটাকে বিচারযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখা হবে। সে ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ছাড়াই ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা যাবে, এবং তাঁর অপরাধ হবে জামিনঅযোগ্য। ওই মুখপাত্রের কথায়, “অনেক আলোচনার পরেই এই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই অপরাধগুলির ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা যাবে।”

এর পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। আইনজ্ঞরা মনে করছেন এই আইনের অপব্যবহার হতে পারে এবং কোনো ব্যক্তিকে অযথা হয়রান করা হতে পারে। এই আইন বদলে অবশ্য ষড়যন্ত্রই দেখছে বিরোধীরা। বিরোধীদের মতে, এই আইনের মাধ্যমে সরকার এটাই বুঝিয়ে দিল যে এর পর থেকে যে রাজ্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে তাকেই হাজতে পুরে দেওয়া হবে।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন একদা রাজ্য সরকার ঘনিষ্ঠ এবং তেলঙ্গানা জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির প্রধান এম কোদণ্ডরাম। তাঁর কথায়, “কুকথার অনেক রকম ব্যাখ্যা হতে পারে। কোন শব্দকে কুকথা হিসেবে বিচার করা হবে তার কোনো ব্যাখ্যা কেউ দেয়নি। এর পর থেকে কোনো ব্যক্তি যদি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওকে অত্যাচারী বা একনায়কতান্ত্রিক বলে, তাকেও তো হাজতে পুরে দেওয়া হতে পারে।”

হায়দরাবাদ হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই আইন বদলকে মানুষের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ আখ্যা দিয়েছে বিরোধী কংগ্রেস। রাজ্য সরকারের তীব্র নিন্দা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here