তামিলনাড়ু : তামিলনাড়ুতে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা একটি শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলতে চলেছে। এটিই হবে ভারতের প্রথম তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের দ্বারা গড়ে ওঠা কোনো সংগঠন। রাজ্যের ১০০ জন সফটওয়্যার কর্মী এর সদস্য হিসাবে ইতিমধ্যে নাম লিখিয়েছেন। তামিলনাড়ুর এই সংগঠনটির নাম দেওয়া হবে ‘ফোরাম ফর আইটি এমপ্লয়িজ, তামিলনাড়ু’। এক জন সক্রিয় সদস্য পি পিল্লিমা বলেন, এই সংগঠনটি মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা প্রদান এবং তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের শ্রম আইন অনুযায়ী অধিকার প্রদানের জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা কগনিজেন্টের কর্মী ছাঁটাইয়ের এক সপ্তাহ পর সংগঠনটি গড়ে তোলার কাজ শুরু হয় ।

কর্মীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, যদিও তামিলনাডুর তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে আনুমানিক ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কর্মী রয়েছেন। কিন্তু অনেকেই সংগঠনটির সদস্য হতে অনিচ্ছুক। কারণ তারা মনে করছেন, এখানে যোগ দিলে নিয়োগকর্তারা তাঁদের সমস্যায় ফেলতে পারেন।

ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোহনদাস পাই সংবাদমাধ্যমকে জানান, কেউই এই সংগঠনে যোগদান করতে আগ্রহী নন। কারণ ব্যবসার ৯৬%-ই আসে ভারতের বাইরে থেকে। এটি স্থানীয় কোনো কার্যকলাপ নয়। কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ আর তামিলনাড়ু একযোগে সবচেয়ে বেশি তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা রপ্তানি করে থাকে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে টিসিএস-এর শত শত কর্মীকে ছাঁটাই করার পর গত বছর রাজ্যের শ্রমিক সংগঠন বিষয়ক আইনে পরিবর্তন আনা হয়। তবে আইন পরিবর্তন করা হলেও কর্ণাটকের এই ধরনের সংস্থাগুলিতে শ্রমিক সংগঠন করার অনুমতি নেই।

গত বছরের একটি হিসেব অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর ইনফোসিসের ১৭ হাজারেরও বেশি কর্মচারী রয়েছেন। ভারতের বৃহত্তম সফটওয়্যার রফতানিকারক সংস্থা টিসিএস-এর এই রাজ্যের ১৩টি শাখায় প্রায় ৬০ হাজার এবং উইপ্রোয় ২৫ হাজার কর্মী রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কগনিজেন্ট সংস্থার মোট ২ লক্ষ ৬০ হাজার কর্মীর ৫% কে রবরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ হিসেবে কর্মীদের অযোগ্যতাকে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এই ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা সরকারের কাছে অভিযোগ জানায় যে, কেবলমাত্র ছাঁটাই করার জন্যই এই মিথ্যা ভাষণ করা হয়েছে। তবে সংস্থাগুলির তৈরি করা একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই পরিসংখ্যাণ অতিরঞ্জিত। ছাঁটাইয়ের পরিমাণ ২-৩%-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here