target-panchayat-vote-narendra-modis-budget-tonic-farmers
janyata-mondal
জয়ন্ত মণ্ডল

এক কথায় বলা যেতে পারে মোদীর পঞ্চায়েত পাঞ্চ। কারণ আগামী বছর সারা দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ অসম, অন্ধ্রপ্রদেশ, পণ্ডিচেরি ও জম্মু-কাশ্মীরের পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার নতুন বছরের শুরুতেই হয়তো পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে সরকারি উদ্যোগ নেবে। থেমে থাকছে না কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোমও। কারণ সাম্প্রতিক গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে গ্রামীণ এলাকায় কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির যে হারে ভোট কমেছে তাতে যথেষ্ট চিন্তিত দলের উচ্চ নেতৃত্ব। তার উপর প্রায়শই রাজধানীর রাস্তায় বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কৃষক সংগঠনগুলির আন্দোলন তো লেগেই রয়েছে বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর রিপোর্ট সামনে রেখে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এ মুহূর্তে কৃষকৃ-আত্মহত্যার হার চরম আকার ধারণ করছে। গত ২০১৫-এর তুলনায় কৃষক আত্মহত্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪২ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে যা ৮০০৭ জন। তবে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সহায়তা না দিয়ে তাদের যদি সঠিক ভাবে পরামর্শ দেওয়া যায়, তা হলে আত্মহত্যার গতিমুখ রুদ্ধ করা যায়। কিন্তু যে কোনো সরকারি উদ্যোগের মধ্যেই ঠাঁই পায় তাদের আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি। এক দিকে সেই সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিলম্বতা, অন্য দিকে কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে বাসা বেঁধে থাকা হীনমন্যতা চরম হতাশা আর নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিচ্ছে। মোদী সরকার অবশ্য পরামর্শ দানের থেকে প্রতিশ্রুতি বিলিতেই বেশি আগ্রহী। এমন এক চরম পরিস্থিতিতেও নরেন্দ্র মোদী বলে চলেছেন, আগামী ২০২২ সালের মধ্যেই প্রতি কৃষকের আয় দ্বিগুণ হবে। এবং চাষের খরচ বাদে কৃযকের আয়ে ৫০ শতাংশ লাভ থাকবে উৎপাদিত পণ্যের উপর।

চাষের প্রস্তুতি খরচ জোগান দেওয়ার জন্য সহজ ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি হতে পারে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কেনার জন্য সরকার পৃথক ভরতুকির ব্যবস্থা করতে পারে।

সম্ভবত আগামী বছর ১ ফেব্রুয়ারিতেই বাজেট পেশ করতে পারে এনডিএ। তা যে আগামী ২০১৯ লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে রচিত হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তার থেকেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে আগামী বছরে দেশের ওই রাজ্যগুলির পঞ্চায়েত নির্বাচন। সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাচ্ছে মোদী-বিমুখ কৃষক সম্প্রদায়কে তুষ্ঠ করার আকর্ষণীয় প্রস্তাব। কী থাকছে সেই প্রস্তাবে?

সূত্র বলছে, চাষের প্রস্তুতি খরচ জোগান দেওয়ার জন্য সহজ ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি হতে পারে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কেনার জন্য সরকার পৃথক ভরতুকির ব্যবস্থা করতে পারে। শস্য বিমা প্রকল্প চালু থাকলেও তার রূপায়ন সে অর্থে হচ্ছে না। সে দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নতুন নতুন সেন্টার খোলা হতে পারে। বীজ নিয়ে স্থানীয় আধিকারিকদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার খবর আসছে। তা রদ করতে নজরদারি দল গঠিত হতে পারে। এবং সব থেকে বিতর্কিত বিষয়, ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার অভিযোগের সুরাহা করতে সরকারি সমবায়ের মাধ্যমে ফসল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ইতি মধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনে নেওয়ায় ফড়ে-রাজে লাগাম পরানো কিছুটা হলেও সম্ভব হয়েছে। এ বার কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে সে ধরনের কোনো কার্যকরী প্রকল্প হাতে নিতে পারেন মোদী।

আগামী বাজেটের আর একটি চমকপ্রদ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনায় আকাশ ছোঁয়া বরাদ্দ বৃদ্ধি। শুধু যাতায়াত নয়, কৃষিজ পণ্য পরিবহণের দিকটিতে অধিক গুরুত্ব দিতে মোদী সরকার যে পরিমাণ অর্থ এই খাতে বরাদ্দ করতে চলেছে তা রীতি মতো রেকর্ড সৃষ্টি করার মতোই।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সড়ক যোজনায় আগামী বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৯০,০০০ কোটি টাকা। ২০০০ সালে শুরু হয়ে ছিল এই প্রকল্প। এর পরে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে তৎকালীন অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকার কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, শস্য বিমা, ইলেকট্রিক ট্যারিফ অ্যাক্ট ২০০৩ ইত্যাদি জনমুখী প্রকল্পের সূচনা সে সময়ই করেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কৃষক সমাজের উষ্মা প্রশমিত করা যাচ্ছে না। স্বভাবতই বাজেটকে উপলক্ষ করে মোদীর এই পঞ্চায়েত পাঞ্চ। কতটা কাজে লাগবে, তা সময়ই বলবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here