এনকাউন্টারে ১৭ নিরীহ গ্রামবাসীর রক্ত লেগেছিল পুলিশের হাতে! হায়দরাবাদ নিয়ে কত দূর এগোবে কমিশন?

0
NHRC
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদে তরুণী পশুচিকিৎসকের গণধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডে চার অভিযুক্তের এনকাউন্টারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত ভিন্ন হলেও প্রায় সাত বছরের পুরনো একটি এনকাউন্টারেও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ওই এনকাউন্টারে দাবি করা হয়েছিল, ১৭ জন মাওবাদী পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মারা গিয়েছে। যদিও পরে বিচার বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, নিহতরা প্রত্যেকেই নিরীহ গ্রামবাসী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মামলার তদন্তে সময় লাগে। ছত্তীসগঢ পুলিশ ২০১২ সালের ২৮ জুন বিজাপুর জেলার সারকেগুড়ায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৭ জনকে খুন করেছিল। ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তে নেমে প্রাক্তন বিচারপতি ভি কে আগরওয়াল আবিষ্কার করেছেন, বিজাপুরের ওই এনকাউন্টারে মাওবাদী বলে দাবি করা ১৭ জন গ্রামবাসীর রক্তে পুলিশের হাত রক্তাক্ত হয়েছিল। তৎকালীন বিজেপি সরকার এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় কমিশনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের গুলিতে ওই দিনের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা মাওবাদী নয়। প্রত্যেকেই নিরীহ গ্রামবাসী। গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে গুলি চালনায় প্ররোচনা জোগানোর মতো কোনো কারণও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, পুলিশ দাবি করেছিল গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে গুলি চালানো হয়। কিন্তু পুলিশের ওই দাবি ভুল ছিল। কারণ, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর কোনো প্রমাণ বাহিনী দিতে পারেনি। এমনকী ঘটনাস্থল থেকে বন্দুক ও পেলেট সংগ্রহ করার পুলিশি দাবিও প্রত্যাখ্যান করা হয়।

সারকেগুড়া গ্রামে ১৭ জনের খুনের ঘটনায় দেশজোড়া প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ার পরে তৎকালীন বিজেপি সরকার এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। বিচারপতি আগরওয়াল অবসর গ্রহণের আগে গত ১৭ অক্টোবর ওই প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেন এবং শনিবার গভীর রাতে এটি ছত্তীসগঢ়ের মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হয়। সোমবার যা বিধানসভায় উপস্থাপিত হয়। তার পরেই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলি রাজনৈতিক আক্রমণে অবতীর্ণ হয়।

[ আরও পড়ুন: হায়দরাবাদ এনকাউন্টারে পুলিশের উপর এত ‘আস্থা’ দেখানোর কী রয়েছে: অপর্ণা সেন ]

কখনও কখনও মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয় বা সেগুলি জনস্বার্থ মামলার অংশ হয়ে যায়, যা শীর্ষ আদালত গৃহীত হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কমিশনের নোটিশ বা রায়ে মনোযোগ দেওয়া হয় না।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন