sarvepalli radhakrishnan

খবরঅনলাইন ডেস্ক: শিক্ষক এবং দার্শনিক ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন বিভিন্ন সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের দূত, দেশের উপরাষ্ট্রপতি এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। ১৯৬২ সালে প্রথম বার ড. রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়েছিল।

জেনে নেওয়া যাক ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন সম্পর্কে দশটা তথ্য –

১) বর্তমান তামিলনাড়ু এবং তৎকালীন মাদ্রাজ প্রদেশের তিরুতান্নিতে এক গরিব ব্রাহ্মণ পরিবারে ১৮৮৮-এর ৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন রাধাকৃষ্ণন। ছেলে পূজারি হোক, এমনটাই চাইতেন তাঁর বাবা। বাবা কখনোই চাননি ছেলে ইংরেজি পড়ুক। কিন্তু রাধাকৃষ্ণনের জেদে পরাজিত হন তাঁর বাবা। তিরুপতির একটি স্কুলে তাঁকে ভর্তি করা হয়।

মেধাবী ছাত্র রাধাকৃষ্ণন স্কুলজীবনে অসংখ্য স্কলারশিপ পেয়েছেন। প্রথমে ভেলোরের ভুরহি কলেজে ভর্তি হলেও, পরে মাদ্রাজ ক্রিশ্চান কলেজে ভর্তি হন তিনি। তাঁর বিষয় ছিল দর্শন। কিন্তু দর্শন তাঁর প্রথম পছন্দের বিষয় ছিল না। বই কেনার টাকা ছিল না রাধাকৃষ্ণনের। কিন্তু সেই সময়েই একই কলেজ থেকে দর্শন নিয়ে স্নাতক হন তাঁর এক দাদা। দাদার বইয়ের জন্যই দর্শনকেই বেছে নেন তিনি।

বয়স যখন ২০, বেদান্ত দর্শন বিষয়ে তাঁর লেখা গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

২) রাধাকৃষ্ণন ১৯০৮-এ মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনাজীবন শুরু করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয়ও তাঁর অধ্যাপনার স্বাদ পায়। অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের ভূমিকাও পালন করেছেন তিনি।

৩) ছাত্রছাত্রীদের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন রাধাকৃষ্ণন। মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার উদ্দেশ্যে যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নিচ্ছেন অধ্যাপক রাধাকৃষ্ণন, তখন তাঁর পড়ুয়ারা ফুলসজ্জিত গাড়ির ব্যবস্থা করে তাঁকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল।

৪) বয়স যখন ১৬, দূর সম্পর্কের আত্মীয় শিবাকামুকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৫৬-য় তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়।

৫) ১৯৫২-য় উপরাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন। কিন্তু তার আগে, অর্থাৎ ১৯৪৬-এ ইউনেস্কোর ভারতের দূত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৪৯-এ তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের দূত হন।

দশ বছর দেশের উপরাষ্ট্রপতি থাকার পর ১৯৬২-তে ভারতের রাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন। নোবেলজয়ী ব্রিটিশ দার্শনিক, বারট্রান্ড রাসেল বলেছিলেন, “ড. রাধাকৃষ্ণন ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়া মানে দর্শন বিষয়টার কাছে একটা আলাদা সম্মানের। আমি নিজে দার্শনিক, তাই আমি গর্বিত।”

৬) রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর পড়ুয়াদের দাবি ছিল তাঁর জন্মদিনটা যেন বিশেষ ভাবে উদযাপন করা হয়। রাধাকৃষ্ণন বলেছিলেন, “জন্মদিন উদযাপন না করে সেই দিনটা যদি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়, তা হলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।” সেই থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ভারতে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালিত হয়।

৭) ১৯৫৭-য় রাষ্ট্রপতি হিসেবে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর, রাধাকৃষ্ণনকেই রাষ্ট্রপতি করতে চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। কিন্তু মৌলানা আজাদের তীব্র বিরোধিতায় সেটা হয়নি। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ আরও  পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতি থাকেন। ১৯৬২-তে নেহরুর সক্রিয়তায় রাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন।

৮) তাঁর রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালে দু’টো যুদ্ধে যেতে হয় ভারতকে। প্রথম ছিল ১৯৬২-তে চিনের সঙ্গে যুদ্ধ। রাষ্ট্রপতির আসনে বসার কয়েক মাসের মধ্যেই সেই যুদ্ধ। এর তিন বছর পরে ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ।

১৯৬৫-এর ২৫ জুন জাতির উদ্দেশে ভাষণের সময়ে রাধাকৃষ্ণন বলেন, “পাকিস্তান ভারতকে হয় খুব দুর্বল ভেবেছে, নয়তো খুব ভীত ভেবেছে। ভারত সাধারণত অস্ত্র হাতে তোলে না, কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে পাকিস্তানকে একটা শিক্ষা দেওয়া দরকার। পাকিস্তান যেটা ভেবেছিল, তার বিপরীতটাই হল।”

১৯৬৪ সালে নেহরুর মৃত্যু হয়, এর ঠিক দু’ বছর পরেই তাসখন্দে আকস্মিক মৃত্যু হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর।

৯) তাঁর জীবনীতে, বাবার সম্পর্কে রাধাকৃষ্ণনের ছেলে সর্বপল্লি গোপাল বলেছেন, “কখনও কোনো নিম্নমানের কাজ করেননি তিনি। কখনও কোনো নিম্নমানের চিন্তাও এসেছিল বলে মনে হয় না।”

১০) ‘ইন্ডিয়া টুডে’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখায় প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী কে নটবর সিংহ বলেছিলেন, রাধাকৃষ্ণনের মুখে নিজের বিরোধিতা মেনে নিতে পারেননি ইন্দিরা গান্ধী। তাই ১৯৬৭-তে দ্বিতীয় বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ হারান রাধাকৃষ্ণন। নটবরের কথায়, “এটা রাধাকৃষ্ণনের কাছে বিশাল আঘাত ছিল।”

১৯৭৫-এর ১৭ এপ্রিল প্রয়াত হন রাধাকৃষ্ণন।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন

2 COMMENTS

Comments are closed.