এফআরডিআই বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। ছবি সৌজন্যে ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়া।

ওয়েবডেস্ক: ফিনান্সিয়াল রেজোলিউশন অ্য‌ান্ড ডিপোজিট ইন্সিওরেন্স বিল (এফআরডিআই) বিল প্রত্যাহার করে নিচ্ছে কেন্দ্র। বিলের বেশ কিছু ধারা নিয়ে জনসাধারণ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই এই বিলের বিরোধিতা করছেন। এ সব দিক চিন্তা করেই কেন্দ্র এই পথে যাচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পীযূষ গয়াল যৌথ সংসদীয় কমিটিকে বলেছেন। মঙ্গলবার এই খবর দিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কোনো ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়ে গেলে তাকে বাঁচানোর জন্য এফআরডিআই বিলে যে ‘বেল-ইন’ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেই নিয়েই আপত্তি ও আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন বহু মানুষ, ব্যাঙ্কের সঙ্গে যাঁদের স্বার্থ জড়িত। তা ছাড়া, আরও আপত্তি রয়েছে রেজোলিউশন কর্পোরেশন নিয়ে। বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব-সহ অনেকেই মনে করেন এতে ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের পথ প্রশস্ত হবে।

‘বেল ইন’ কী

বিলে বলা হয়েছিল, ব্য‌াঙ্ক দুরবস্থায় পড়লে তাকে ‘বেল ইন’ করা হবে। অর্থাৎ নতুন পুঁজি জোগাড় করে তাকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু নতুন পুঁজি আসবে কোথা থেকে? ধুঁকতে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার তো কেউ কিনবে না। একমাত্র ব্য‌াঙ্কের সম্পদ বেচার গ্য‌ারান্টি পেলে তবেই পুঁজি বিনিয়োগের ঝুঁকি কেউ নিতে পারে। সে দিকে লক্ষ রেখেই সাধারণ মানুষের আমানতকে ইকুইটি শেয়ার বা ব্য‌াঙ্কের পুঁজিতে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে ফিক্সড ডিপোজিট বা বন্ডের টাকা চাইলেই আর ফেরত পাওয়া যেত না। সেগুলি সবই তামাদি হয়ে যেত। ব্য‌াঙ্ক সেই আমানতের পুরোপুরি মালিক হয়ে যেত। এত দিন পর্যন্ত ব্য‌াঙ্কে জমা থাকা আমানতের গ্য‌ারান্টি দিত ডিপোজিট ইন্সিওরেন্স অ্য‌ান্ড ক্রেডিট গ্য‌ারান্টি কর্পোরেশন বা ডিআইসিজিসি। এই সংস্থাটিকে পুরোপুরি তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের আমানতের ওপর কোনো বিমা গ্য‌ারান্টি থাকবে না বলে আশঙ্কা ছিল সাধারণের।

আরও পড়ুন শিল্পপতিরা টাকা লোপাট করবেন, ঘাড় ভাঙা হবে সাধারণ মানুষের?

সংসদীয় কমিটির অন্যতম সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় এফআরডিআই বিল প্রত্যাহার সংক্রান্ত খবরের সত্যতা স্বীকার করেন দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কাছে। তিনি বলেন, “অবশেষে জনগণের জয় হল।”

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here