indian parliament

নয়াদিল্লি: বড়দিনের লম্বা ছুটি কাটিয়ে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন আজও প্রায় ভন্ডুল হয়ে গেল ‘মন্তব্য’ বিতর্কে। সংবিধানের প্রতি বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা অটুট রেখেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্তকুমার হেগড়ের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এ দিন বিরোধীরা প্রথম থেকেই প্রতিবাদে মুখর ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই আজ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার আগাম ইঙ্গিত থাকলেও সংসদের দুই কক্ষই রীতি মতো উত্তাল হয়ে ওঠে। যার জেরে লোকসভা এবং রাজ্যসভা, দুই জায়গাতেই সংক্ষিপ্ত স্থগিতাদেশ জারি করেন দুই অধ্যক্ষ। কিন্তু দ্বিপ্রহরে ফের অধিবেশন কক্ষে ঢুকে কংগ্রেস অধিবেশন মুলতুবির দাবি তুলতে শুরু করে।

হেগড়ে বিতণ্ডার সঙ্গেই যুক্ত হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের প্রতি অপমানজনক মন্তব্যের বিরোধিতায় কংগ্রেসের চরম বিক্ষোভ। যা সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই জারি রয়েছে। সব মিলিয়ে লোকসভা বা রাজ্যসভা, কোনো কক্ষই আজ মুহূর্তের জন্য স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি।

সম্প্রতি কর্নাটকে একটি অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হেগড়ে মন্তব্য করেন, সংবিধানে ‘সেকুলার’ শব্দটির পরিবর্তন দরকার। বিরোধীরা মনে করেন, এক জন দায়িত্বশীল আইনসভার সদস্য হিসাবে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য করে তিনি দেশের সংবিধানকে চরম ভাবে অপমান করেছেন। কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের তরফে দাবি করা হয়, হয় হেগড়েকে ক্ষমা চাইতে হবে অথবা তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।

রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ দাবি করেন, একজন ব্যক্তির যদি দেশের সংবিধানের প্রতি বিশ্বাস না থাকে তা হলে তাঁর কোনো অধিকার নেই আইনসভার সদস্য হওয়ার।

তবে অবস্থার সামাল দিতে আসরে নামেন আর এক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বিজয় গোয়েল। তিনি রাজ্যসভায় বলেন, হেগড়ের মন্তব্যকে দল কোনো মতেই সমর্থন করে না।

কিন্তু এতে অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। লোকসভার চিত্রটাও প্রায় একই। দিল্লির স্বীকৃতিহীন কলোনি বা পাকিস্তানের হাতে বন্দি কুলভূষণ যাদবের মা ও স্ত্রীর সে দেশে যাওয়া-সহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চললেও মাঝপথে অনায়াসেই ঢুকে পড়ে মন্তব্য বিতর্ক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here