উত্তরপ্রদেশে কৃষক-হত্যার ঘটনায় দেশ জুড়ে ধিক্কার, ঘটনার নিন্দায় বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ, ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন অনেকেই

0

উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের নির্মম হত্যা করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কৃষকরা সংঘবদ্ধ ভাবে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মিছিল ও ব্যাপক বিক্ষোভ অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ দিকে বিজেপিবিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দল এই গুণ্ডাগিরি ও গণহত্যার বিরোধিতা করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা করছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আগামীকাল লখিমপুর খেরি যাচ্ছেন। কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীও আগামীকাল সোমবার লখিমপুর খেরি যাচ্ছেন বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। সমাজবাদী দলের প্রধান অখিলেশ যাদবও কাল সেখানে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিএসপির প্রতিনিধিদলও কাল ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বলে যথাক্রমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মায়াবতী জানিয়েছেন।     

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, তাঁর দল কৃষকদের এই আত্মত্যাগ বৃথা হতে দেবে না।

ঘটনার নিন্দা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “লখিমপুর খেরির বর্বর ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। আমাদের কৃষকভাইদের প্রতি বিজেপির বেদনাবোধহীনতা আমাকে ব্যথিত করে। তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল আগামীকাল শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। আমাদের কৃষকদের প্রতি আমাদের নিঃশর্ত সমর্থন রয়েছে।”

এনসিপি নেতা শরদ পওয়ার বলেছেন, “কৃষকদের কণ্ঠরোধ করার এ এক বর্বর প্রচেষ্টা। উত্তরপ্রদেশে লখিমপুর খেরির ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি।”

সমাজবাদী দলের প্রধান অখিলেশ যাদব বলেছেন, “প্রতিবাদরত কৃষকদের পিষে মেরে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পুত্র। ঘটনাটি খুবই অমানবিক।” এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ দাবি করেছেন অখিলেশ।  

বসপা নেত্রী মায়াবতী বলেছেন, “এই ঘটনায় বিজেপি সরকারের স্বৈরাচারিতা ও নৃশংসতা প্রমাণ হয়ে গেল। এটাই বিজেপির আসল মুখ।”

সমাজের বিশিষ্টজনরাও এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও বিরোধিতা করেছেন। ‘পরিপ্রশ্ন পত্রিকা’-এর পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হচ্ছে এবং অবিলম্বে অজয় মিশ্রর পদত্যাগ  ও আশিস মিশ্রর গ্রেফতারি দাবি করা হচ্ছে।

কর্পোরেটের স্বার্থে প্রণীত আনা কালা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রায় এক বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের অন্নদাতারা। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না এর যুক্তিযুক্ত সমাধানের পথ খুঁজতে। অথচ নানা ভাবে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে।

কৃষি বাস্তুতন্ত্রের সামগ্রিক সংকট সমাধানে এবং কৃষি-কৃষ্টি ও কৃষকদের বাঁচাতে সকল গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ অবিলম্বে কালা কৃষি আইনের বাতিলের দাবিতে কৃষকদের সাথ দিন, পথে নামুন – এই আহ্বান জানানো হয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে।

আরও পড়তে পারেন

অদ্ভুত কাণ্ড! রক্তদান শিবিরেই দলবদল বিজেপি নেতার

বিধানসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূলের খরচ দেড়শো কোটি টাকা, জানা যায়নি বিজেপির ব্যয়

নন্দীগ্রামে ষড়যন্ত্র, জবাব দিল ভবানীপুর: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রেকর্ড ভেঙে বিশাল জয়, ভবানীপুরের কোনো ওয়ার্ডেই কম ভোট পায়নি তৃণমূল!

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন