শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার সময় আধার নম্বর দিয়ে কেমন বিপদে পড়তে হয়, দেখুন

য়েবডেস্ক: প্রথমেই বলা রাখা ভালো, এই নির্দিষ্ট প্রতারণা কাণ্ডটির তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি বেসরকারি শিক্ষাকেন্দ্র, একটি ব্যাঙ্ক এবং কিছু শিক্ষার্থী। বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন, ফলে কোনো ভাবেই তাদের নাম উল্লেখ করা সম্ভব হল না।

দিল্লি পুলিশের কাছে ওই প্রতারিত ছাত্র-ছাত্রীরা এফআইআর দায়ের করে বলেছে, ওই কোচিং সেন্টারে ভর্তি না হওয়া সত্ত্বেও মাসের পর মাস বেতন দিতে হচ্ছে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। কিন্তু আধার নম্বরের সঙ্গে এই ঘটনার কী সম্পর্ক রয়েছে?

স্বনামধন্য ওই শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি হতে এলে পড়ুয়াদের বলা হয়, এনরোলমেন্টের আগে আবেদনপত্র ভরার সময় তাঁদের অর্থ সংস্থানের বিষয়টিও জানাতে হবে। পড়ুয়া বা অবিভাবকদের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে কি না, সেটা যাচাই করতে হবে। তা ছাড়া সেন্টারের একটি বিশেষ অ্যাপ-এ নাম নথিভুক্ত করার জন্যও দরকার আধার নম্বরের। ওই আধার নম্বর দিয়েই ইনস্ট্যান্ট অথেন্টিকেশনের কাজ করতে হবে। নিরুপায় পড়ুয়া এবং তাঁদের অবিভাবকরা রাজি হয়ে যান। তবে আগে থেকেই শর্ত ছিল ডেমো ক্লাসে অংশ নিয়ে ভালো লাগলে তবেই তাঁরা ভর্তি হবেন। শুধু মাত্র এনরোলমেন্টের জন্য আধার নম্বর দিয়ে দেন পড়ুয়ারা। স্বাক্ষর করেন আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট জায়গাগুলিতেও। কিন্তু ওই দিনই তাঁদের টনক নড়ে এনবিএফসি-র একটি মেসেজে।

তাঁরা জানতে পারেন, একটি ব্যাঙ্ক তাঁদের ঋণের আবেদন মঞ্জুর করেছে। ওই টাকা শিক্ষাকেন্দ্রের অ্যাকাউন্টে ইসিএসের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে। উল্লেখ্য, বেতন কাটার জন্য ওই সেন্টার একটি ইসিএস ফর্মেও স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিল আগেই। কিন্তু পড়ুয়াদের দাবি, তাঁরা তো ঋণের জন্য মোটেই আবেদন করেননি। যাঁরা ঋণের কথা বলেছিলেন, তাঁদেরও শর্ত ছিল সেন্টারে ভর্তি হলে তবেই তাঁরা ঋণ নেবেন। কিন্তু ডেমো ক্লাস শুরু না হতেই কেন ঋণ মঞ্জুর হয়ে গেল?

দু’-এক দিন ডেমো ক্লাস করার পরই বেশ কয়েকজন ওই সেন্টারে ভর্তি না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্বাভাবিক ভাবে তাঁরা ব্যাঙ্ককে জানান ঋণ না নেওয়ার কথা। কিন্তু ব্যাঙ্ক বলে, সারা বছরের বেতন বাবদ টাকা ওই শিক্ষাকেন্দ্রের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়ে গিয়েছে। অগত্যা?

পড়ুয়া ও তাঁদের অবিভাবকরা দ্বারস্থ হয়েছেন দিল্লি পুলিশের কাছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.