election commission of india

ওয়েবডেস্ক: রাজনৈতিক দলগুলি তথ্য জানার আইনের বাইরে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এমন একটি নির্দেশে বিতর্কের সৃষ্টি হল। এই নির্দেশটি তথ্য জানার অধিকার বা আরটিআই আইনের সঙ্গে চরম পরিপন্থী। কারণ, স্বচ্ছতা আনয়নের উদ্দেশে ২০১৩ সালেই আরটিআইয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয় দেশের ছয়টি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে। কিন্তু ওই রাজনৈতিক দলগুলির ইলেক্টোরাল বন্ডের মারফত আয়ের পরিমাণ জানার আবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের এমন নির্দেশই বিতর্কের সূত্রপাত করল।

কেন্দ্রীয় জন তথ্য আধিকারিকের বক্তব্য, “আবেদনে জানতে চাওয়া তথ্যগুলি নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। ওই দলগুলি  ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুদান/অর্থের পরিমাণ হয়তো কমিশনের কাছে জানাতে পারে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮-এর মধ্যে”। পুণের বাসিন্দা বিহার ধুরভের আবেদনের জবাবে এমনটাই দাবি করেছেন ওই আধিকারিক। আবেদনকারীর দাবি ছিল, বিজেপি,কংগ্রেস, বিএসপি, এনসিপি, সিপিআই, সিপিএম এবং সমাজবাদী পার্টির নতুন প্রস্তাবিত নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে কত টাকা আয় করেছে তার হিসাব জানানো হোক।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি কে এফ উইলফ্রেড কেন্দ্রীয় জন তথ্য আধিকারিককে যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেটাই আবেদনকারীকে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক। যদিও কমিশনেরই একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১৩ সালের ৩ জুন দেশের ছয়টি রাজনৈতিক দলকে তথ্য জানার অধিকার আইনের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের এক প্রাক্তন আধিকারিকের মত, দেশের শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ বা নির্দেশ ব্যতিরেকে এই নির্দেশ উলঙ্ঘন করার সম্ভব নয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হননি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন। আরটিআইয়ের মাধ্য আয়-ব্যয় প্রকাশ নিয়ে রাজনৈতিক দলদগুলির তথ্য গোপন সংক্রান্ত একাধিক আবেদন শীর্ষ আদালতে জমা থাকলেও নতুন ইলেক্টোরাল বন্ডের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন এবং আরটিআইয়ের এই সংঘাত যে খুব শীঘ্রই আদালতে যেতে চলেছে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত সংশ্লিষ্ট মহল।

তবে সংবাদ মাধ্যমের তরফে উইলফ্রেডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সমস্ত রাজনৈতিক দল আরটিআইয়ের অধীনস্ত নয়, তিনি সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here