ওয়েবডেস্ক: ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনার মাঝেই আচমকা লাদাখ সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বক্তব্য় রাখেন। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে ‘বিস্তারবাদ’ এখন মুছে গিয়েছে। এখন ‘বিকাশবাদ’ প্রাসঙ্গিক। সারা প‌ৃথিবী এখন বিস্তারবাদী শক্তির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করছে।

চিনের আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে মোদী বলেন, “এখন বিকাশবাদের যুগ। ইতিহাস সাক্ষী, বিস্তারবাদীরা মুছে গিয়েছে। বিশ্বে শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছে বিস্তারবাদীরা। কিন্তু প্রতিবারই তাদের পরাস্ত হতে চেয়েছে। কারণ, সারা বিশ্ব তাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়ছে”।

সেনার মনোবল বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গলওয়ান উপত্যকায় আপনারা যে বীরত্ব দেখিয়েছেন, তা সারা দেশ স্মরণে রাখবে। সারা বিশ্ব দেখেছে আপনাদের বীরত্ব এবং ক্রোধ। আপনাদের বীরত্বের জন্যই সারা দেশ সুরক্ষিত। শান্তির জন্য় যে শক্তি চাই, সেটাই আপানারা দেখিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের সংকল্প এই উপত্য়কার থেকেও শক্ত, আপনাদের ইচ্ছাশক্তি এই পর্বতের মতোই অটল”।

একই সঙ্গে নাম না করে প্রধানমন্ত্রী চিনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গলওয়ান উপত্যকা আমাদেরই। লাদাখ ভারতের মুকুট। ভারত সব সময়ই শান্তির কথা বলে। কিন্তু আমরা যেমন বংশীধারী শ্রীকৃষ্ণের পুজো করি, তেমনই সুদর্শন চক্রধারী শ্রীকৃষ্ণের পুজোও করি। আমরা হাতিয়ার ধরতে জানি। ভারতের শত্রুতা সেনার শক্তি দেখেছে”।

সেনার সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “ আমরা সবাই মিলে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলব। আপনার আত্মত্যাগের মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারত আরও দৃঢ় হবে। আপনাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা আরও কঠিন চ্য়ালেঞ্জের মোকাবিলা করব”।

লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় চিনা বাহিনীর মুখোমুখি হওয়া ভারতীয় জওয়ানদের সাহসিকতার প্রশংসা করে মোদী বলেন, “১৪ কোরের বীরত্বের কাহিনী সবাই জানে। আপনার বীরত্ব ও বীরত্বের কাহিনি দেশের প্রতিটি বাড়িতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে”। একই সঙ্গে এ দিন তিনি আরও একবার ওই সংঘর্ষে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

চিনের প্রতিক্রিয়া

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর লাদাখ সফরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ন বলেন, “ভারত ও চিন সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাস করার বিষয়ে যোগাযোগ এবং আলোচনা চালাচ্ছে। এই মুহূর্তে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপে কোনো পক্ষেরই জড়ানো উচিত নয়”।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন