Anitha's Father

চেন্নাই : সরকারের অনুদান ফিরিয়ে দিল আত্মঘাতী অনিতার পরিবার।  ১৭ বছরের দলিত কন্যা অনিতা। গত সপ্তাহে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। মেডিক্যালে ভর্তির সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় সফল হতে না পেরে এই পথ বেছে নেয় অনিতা। অনিতার বাবা  রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দেওয়া সাত লক্ষ টাকার চেক ফিরিয়ে দেন। কিন্তু বিরোধীদল ডিএমকের এম কে স্ট্যালিনের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকার চেক অনুদান হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে বিজেপির পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জঘন্য রাজনৈতিক খেলায় নেমেছে বিরোধীদল।

আরও পড়ুন: বাতিল হোক নিট’, অনিতার আত্মহত্যায় বিক্ষোভে উত্তাল তামিলনাড়ুতে উঠেছে দাবি

অনিতার পরিবারের দাবি, মেডিক্যালে ভর্তির সর্বভারতীয় পরীক্ষা থেকে তামিলনাড়ুকে অব্যাহতি দিতে হবে। তাঁদের মেয়ে অনুদান পাওয়ার আশায় প্রাণ দেয়নি। প্রাণ দিয়েছে সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারার জ্বালায়।

আরিয়ালু জেলার কুঝহুমুর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর শন্মুগমের মেয়ে অনিতা। দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় দারুণ ফল করেছিল অনিতা। তার স্বপ্ন ছিল বড়ো ডাক্তার হবে। আশা করেছিল স্বপ্নপূরণের জন্য তাকে সাহায্য করা হবে। সর্বভারতীয় পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর সে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করে। বলে, তার মতো গ্রামে গরিব পড়ুয়ারা সেই সুযোগ পায় না, যা শহরের ধনী পরিবারের পড়ুয়ারা পায়। তাই তাদের কিছু ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানায় সে। কিন্তু না। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রেও মেডিক্যালে ভর্তির জন্য নিট দিতে হবে। দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার ফল দেখিয়ে মেডিক্যালে ভর্তি হওয়া যাবে না।

কালেক্টর জি লক্ষ্মী প্রিয়া জানান, পরিবার এই অনুদান নিতে রাজি হয়নি। তবুও কিছু দিন অপেক্ষা করা হবে। তিনি পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরির প্রস্তাবও দেন। বলেন, এই কাজ দেওয়া হবে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতেই।

অনিতার মৃত্যুর পর থেকেই তামিলনাড়ুতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা এই ঘটনার জন্য রাজ্য সরকার আর কেন্দ্রীয় সরকার উভয়কেই দায়ী করছেন ।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এক বছরের জন্য যাতে রাজ্যকে এই সর্বভারতীয় পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়া যায় তার চেষ্টা করবেন। কিন্তু আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়ে দেন, কেন্দ্র তার জায়গা থেকে সরবে না।

বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনিতার মৃত্যু বিজেপির বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র। গত ন’ বছর ধরে তামিলনাড়ুতে মেডিক্যালে দ্বাদশ শ্রেণীর নম্বরের ভিত্তিতেই ভর্তি নেওয়া হয়ে আসছে। এতে গরিব গ্রমের পড়ুয়াদের কথাও চিন্তা করা হয়েছে। গত বছরও রাজ্যকে নিট থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই বছরই তা বন্ধ করা হয়েছে। তা ছাড়া রাজ্যের ৮৫% আসন রাজ্যের জন্যই বরাদ্দ। তাদেরই অগ্রাধিকার।

ঘটনায় কমল হাসন রবিবার মন্তব্য করেন, এটা স্বাধীনতার যুদ্ধ। এতে সবাইকে এক সঙ্গে লড়তে হবে। কাউকেই একা ছেড়ে দেওয়া উচিত না। কাউকেই অনিতার মতো একা মরতে দেওয়া উচিত নয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here