Aadhaar
রঞ্জনা সোনাওয়ানে

ওয়েবডেস্ক: ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। মহাধুমধাম করে আধার কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছিল দেশের প্রথম প্রাপকের হাতে। রঞ্জনা সোনাওয়ানে সে দিন এক রাশ প্রত্যাশা আর বুকের মধ্যে হালকা উৎকণ্ঠার সঙ্গে ইউপিএ চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীর হাতে থেকে সেই আধার কার্ডটি পেয়েছিলেন।

উৎকণ্ঠা খুবই স্বাভাবিক, কারণ মহারাষ্ট্রের নন্দুরবার জেলার অখ্যাত টেমভালিগ্রামের অতিসাধারণ রমণী সে দিন যে অনুষ্ঠানে আধার কার্ডটি সংগ্রহ করেছিলেন, সেখানে উপস্থিত ছিলেন সনিয়া গান্ধী-সহ দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও। অন্য দিকে প্রত্যাশা ছিল লাগামহীন।

গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আধার সাংবিধানিক বৈধতা পেলেও তা কার্যকারিতায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে শর্ত। এই রায় ঘোষণার পর সংবাদ মাধ্যমের তরফে রঞ্জনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়। প্রথমেই জানা যায়, এত দিন ধরে চলা আধার মামলার বিষয়ে তিনি বিন্দুমাত্র জানেন না। এর পর তিনি ফিরে যান আট বছর পিছনে। বলেন, “আধার কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব পেতেই অনেক স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম। কারণ, আমি জানতাম আধার কার্ড মানে কোনো চাকরি পাওয়া। দেশের এত বড়ো বড়ো মানুষ গ্রামে এসে যখন এই কার্ড দিচ্ছেন, তখন নিশ্চয় এটা দেখিয়ে সরকারি কাজ পাওয়া যাবে। তবে কিছু দিন পরে অবশ্য আমি আমার ভুল বুঝতে পারি”।

তার পর আট বছরে জল দূর থেকে গড়িয়েছে দূরান্তরে। রঞ্জনা সজোরে হেসে বলেন, “আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা এই আধার কার্ডের সাহায্যে মোবাইল সিম তুলেছি সব থেকে বেশি”।


আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোন ক্ষেত্রে আধার জরুরি, কোন ক্ষেত্রে নয়

রঞ্জনার হাসির সঙ্গেই মুখ খুলছেন সরকারি দফতরের আধিকারিকরা। এত দিন তাঁরা সরকারি রোষে পড়ার ভয়ে সিঁটিয়ে থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অনেকেই সরব হচ্ছেন। এক ব্যাঙ্ক কর্তা মন্তব্য করেছেন, “২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে আধার কার্ডের তথ্য নাম অথবা আঙুলের ছাপের সঙ্গে মেলে না”।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন