Uttar Pradesh Hatras incident

খবরঅনলাইন ডেস্ক: হাথরস (Hatras Incident) কাণ্ডে কি নিজেদের পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করে চলেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ? বৃহস্পতিবার থেকে তাদের একই দাবি, ওই তরুণীর কোনো রকম ধর্ষণই হয়নি। একই দাবি করেছেন উত্তপ্রদেশের শীর্ষ পুলিশকর্তাও। যদিও সমাজকর্মীরা তাঁর সেই দাবি মানতে নারাজ।

বৃহস্পতিবার ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও ফরেন্সিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। সেখানে দেখা যায়, গণধর্ষণ তো নয়ই, ধর্ষণের প্রমাণও মেলেনি! 

এর পর উত্তরপ্রদেশের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক প্রশান্ত কুমার এনডিটিভিকে বলেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পর তরুণী নিজের বয়ানে নাকি বলেছিলেন তাঁর ধর্ষণ হয়েছে। তাঁর কথায়, “ঘটনার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক ঘণ্টার মধ্যে তরুণী যখন থানায় এলেন তাঁর দাদার সঙ্গে, আমরা তখন থেকেই তাঁর বয়ানকে বিশ্বাস করছি। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

এর পর তিনি যোগ করেন, “তাঁকে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম বার ওই তরুণী বলেন যে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা তখনই ধর্ষণের ধারা প্রয়োগ করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করি।”

বৃহস্পতিবার ওই পুলিশকর্তা বলেন যে প্রাথমিক ডাক্তারি রিপোর্টে তাঁরা বলপূর্বক যৌন সংসর্গের কোনো প্রমাণ পাননি। এর পর ফরেন্সিক রিপোর্টেও ধর্ষণের চিহ্ন (বীর্য) মেলেনি বলে দাবি করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তবে সমাজকর্মীরা অবশ্য পুলিশের ওই যুক্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, শুধু মাত্র নিগৃহীতার শরীরে বীর্যের অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে না যে, ধর্ষণ হয়নি।

সমাজকর্মীদের দাবি, ২০১৩ সালে ধর্ষণের সংজ্ঞা বদলানো হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, কোনো মহিলার যৌনাঙ্গে শুধু পুরুষাঙ্গ নয়, কোনো বস্তু প্রবেশ করানোটাও ধর্ষণের শামিল। এই ব্যাপারটা কি উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানে না।

এ দিকে হাথরসের ঘটনা নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছে।   

তবে বিরোধী এবং সমাজকর্মীদের দাবি, নির্যাতিতার পরিবার দলিত আর ধর্ষকরা উচ্চবর্ণের বলে হয়তো উত্তরপ্রদেশের ট্র্যাডিশন অনুযায়ী এ বারও অভিযুক্তরা পার পেয়ে যেতে পারে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন