নয়াদিল্লি : ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্সটিটিউটের করা একটি সমীক্ষা বলছে ২০১৬ সালে দেশে জাল নোটের পরিমাণ ছিল চারশো কোটি টাকা।

নোট জাল হওয়া রুখতে প্রতি তিন-চার বছর দেশের উচ্চ মূল্যের নোটের সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি পরিবর্তন করার কথা চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব মহর্ষি-সহ মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকে তেমনটাই সিদ্ধান্ত হয়। নোটবন্দির মাত্র চার মাসের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার হওয়ার পরই নড়ে বসল কেন্দ্র। বৈঠকে বলা হয়, অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলিতে নোট জাল আটকাতে প্রতি ৩-৪ বছর অন্তর টাকার এই বিশেষ বৈশিষ্ট্য বদল করা হয়। ভারতেরও সেই পথে হাঁটা উচিত। 

কিন্তু ভারতের উচ্চ মূল্যের নোটগুলির সুরক্ষা-বৈশিষ্ট্য দীর্ঘ সময় ধরে বদল করা হয়নি। অবশেষে নভেম্বরে ৫০০ ও হাজার টাকার নোট বাতিলের পর এই বদল। ১৯৮৭ সালে ৫০০ টাকার নোট আনা হয়েছিল। তার পর প্রায় এক দশক ৫০০-র নোটে বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আর হাজার টাকা নোট আনার পর তা বাতিল হওয়া অবধি কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আরও পড়ুন : বিমুদ্রাকরণের তিন মাসের মধ্যেই জাল হচ্ছে দু’হাজারের নোট, সন্দেহ আইএসআইকে

তদন্তকারীরা বলছেন, নতুন ২০০০ টাকার নোটের ১৭টা সুরক্ষা-বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ১১টাই জাল করে ফেলেছে জালিয়াতরা। আটক করা জাল নোটগুলিতে আসল নোটের অশোক স্তম্ভের প্রতীক, রুপি ২০০০ লেখা, স্বচ্ছ ভারতের লোগো আর চন্দ্রায়ণ অভিযানের মোটিফ, টাকার খালি জায়গা, গভর্নরের স্বাক্ষর ও দেবনাগরি হরফের লেখা, ‘ওয়াটার মার্ক’ — প্রায় সবই নকল করে ফেলেছে জাল নোট প্রস্তুতকারীরা। যদিও ওই নোটের কাগজ আর ছাপার মান কিছুটা খারাপ, তবুও তা হুবহু আসল নোটের মতোই।

আধিকারিকরা জানান, জাল নোট-সহ বেশ কয়েক জনকে ধরা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, এই জাল নোট ছাপা হয় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (‘ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স)-এর সহায়তায়। বাংলাদেশের মাধ্যমে এ দেশে প্রবেশ করে এই জাল নোট, দাবি আধিকারিকদের।    

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here