supreme-court

ওয়েবডেস্ক: অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের মামলাগুলির নিষ্পত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিল কেন্দ্র সরকার। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এ ব্যাপারে আগেই জানিয়েছিল, যে হারে এই সংক্রান্ত মামলাগুলি বাড়ছে তাতে অবিলম্বে বিশেষ উদ্যোগ নিক সরকার। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সাময়িক দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়ে দিল, দেশের অভিযুক্ত সাংসদ এবং বিধায়কদের মামলাগুলির দ্রুত সমাধানে বিশেষ আদালত বা স্পেশাল কোর্ট গঠনের প্রস্তাবে তারা রাজি।

দেশের দুই মুখ্য আইনসভা, সংসদ এবং বিধানসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জমে থাকা মামলার পরিমাণ ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। একটু পিছনে তাকিয়ে, ২০১৪-এর দিকে নজর দিয়ে দেখা গিয়েছে, ওই সময় ১৫৮১ জন আইনসভা সদস্য কোনো না কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সংখ্যা ছিল তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো – প্রায় ১৩৫০০টি। এই সংখ্যাটি যে গত তিন বছরে দ্রুতহারে বেড়ে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ভারতীয় আইনব্যবস্থায় অপরাধ প্রমাণ না-হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়। এই আইনকে হাতিয়ার করে যে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বেমালুম ক্ষমতা ভোগ করে যাচ্ছেন না, সে বিষয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই ওই মামলাগুলিতে দাঁড়ি টানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। এ দিন কেন্দ্রও তাতে সহমত পোষণ করল।

আদালতে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, প্রাথমিক পর্বে সারা দেশে এ ধরনের ১২টি বিশেষ আদালত গঠন করা হবে। এই কাজে সরকার বরাদ্দ করবে ৭৮০ কোটি টাকা। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঠিক কী পরিমাণ বা কোন ধরনের মামলা ঝুলে রয়েছে, সে বিষয়ে সমীক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত সময় দিতে হবে। ওই সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হলে সঠিক ভাবে বোঝা যাবে এই ধরনের মামলার জন্য আর কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে এই ধরনের আদালত গঠনের কথা প্রথম বলে। কিন্তু সরকারি গড়িমসির কারণে তা ক্রমশ বিলম্বিত হয়। গত মাসে সংশ্লিষ্ট আদালত সরকারকে পুনরায় এ বিষয়ে পরামর্শ দেয়। যার ফলশ্রুতিতে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here