বেঙ্গালুরু : তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে আগামী তিন বছরে ছাঁটাই হবেন ৫ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ ইঞ্জিনিয়ার। বছরের হিসাবে গড়ে পৌনে ২ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ। এই হিসাব দিয়েছে ‘একজিকিউটিভ সার্চ’ সংস্থা ‘হেড হান্টার ইন্ডিয়া’।

ছাঁটাই-এর কারণ হিসেবে ‘হেড হান্টার ইন্ডিয়া’-র ফাউন্ডার-চেয়ারম্যান ও এমডি কে লক্ষ্মীকান্ত সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এঁদের মধ্যে বেশির ভাগেরই নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করার ক্ষমতা নেই। এঁরা নতুন কিছু বানাতে জানেন না। শেখারও ক্ষমতা নেই। তাই তাঁরা এক অর্থে বাড়তি।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘ম্যাকিনসে অ্যান্ড কোম্পানি’ একটা রিপোর্ট তৈরি করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে অর্ধেকেরও বেশি কর্মী বসিয়ে দেওয়া হবে আগামী ৩-৪ বছরে। সেই রিপোর্টটি ব্যাখ্যা করে লক্ষ্মীকান্ত বলেন, এই বছরে এখনও পর্যন্ত ৫৬ হাজার আইটি কর্মী কাজ খুইয়েছেন। আসলে গোটা বছরে সেটা এসে দাঁড়াবে ১.৭৫ থেকে ২ লক্ষে।

‘ম্যাকিনসে অ্যান্ড কোম্পানি’-এর ডিরেক্টর নসির কাকা বলেছিলেন, এই সেক্টরে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা ৩৯ লক্ষ। ভবিষ্যতে এই কাজে বিশাল বড়ো চ্যালেঞ্জ আসতে চলেছে। সেখানে বেশির ভাগ কর্মীকেই নতুন করে শিখতে হবে। সেটা নিতে না পারলেই ছাঁটাই হতে হবে। সেই দিক বিচার করে তাঁরা দেখেছেন, ৩০%-৪০% নতুন শিক্ষা নিতে পারবেন না। তাঁদের অর্ধেক পুরোনো প্রযুক্তিতে কাজ করতে পারবেন। সুতরাং বাকিদের বসিয়ে দেওয়া হবে।

এই কথার ভিত্তিতেই কে লক্ষ্মীকান্ত এই হিসেব করেছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, এই শিল্প দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাতে হবে প্রযুক্তি। শিখতে হবে যাবতীয় নতুন খুঁটিনাটি। তা না পারলে টিকে থাকা দায়। আর এই অবস্থায় সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়বেন এই জগতে থাকা ৩৫ বা তার বেশি বয়সের মানুষরা।

তিনি বলেন, এর জন্য অনেকেই মার্কিন প্রসিডেন্ট ট্রাম্পকে দোষারোপ করবেন। কিন্তু তা ঠিক নয়। কারণ তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করছেন। কিন্তু তাঁর এইচ-ওয়ান বি ভিসা নীতির ভুল পথে ব্যবহার করে ফায়দা তুলছে সংস্থাগুলি, যার বলি হচ্ছেন কর্মীরা। এই পরিস্থিতির আবার ঠিকঠাক ফায়দা নিতে পারে ‘আমাদের দেশ’। সংস্থাগুলিকে ঠিক জমিনীতি, অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধে, অন্যান্য পরিকাঠামোগত সুবিধে দিয়ে দেশের মধ্যে ভালো শিল্প গড়ে তুলে কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here