সাড়ে আট লক্ষ ‘অযোগ্য’ শিক্ষককে আরও একটা সুযোগ দিতে সংশোধনী বিল পাশ লোকসভায়

0
12511

নয়াদিল্লি : শিক্ষাগত যোগ্যাতার মাপকাঠির নীচে থাকা শিক্ষকদের উপযুক্ত যোগ্যতা অর্জন করার জন্য আরও একটা সুযোগ দিতে চায় সরকার। লোকসভায় এই মর্মে আবশ্যিক শিক্ষা (সংশোধনী) বিল ২০১৭ পাশ হল। এই সংশোধনী বিলের লক্ষ্য হল ২০১৯ সালের ৩১ মে তারিখের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাক্ষেত্রের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ন্যূনতম মাপকাঠি পূরণ করা। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় ডিগ্রি লাভ করতে হবে। তাতেও যদি তাঁরা ব্যর্থ হন তা হলে চাকরি খোয়াতে হবে। মন্ত্রক জানিয়েছে, যোগ্যতাহীন শিক্ষকের সংখ্যা সাড়ে আট লক্ষ, যাঁদের শিক্ষার অধিকার আইন (রাইট টু এডুকেশন বা আরটিই)-এর অধীনে শিক্ষাদানের যোগ্যতাই নেই।

আরও পড়ুন: প্রাইমারি টেট-এর আরও সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর

মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, ২০১০ সালে আরটিই কার্যকর হয়। সেই সময় উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব ছিল। কিন্তু শূন্য স্থান পূরণ করতে কাজ চালানোর জন্য অনুপযুক্ত শিক্ষকদেরই কাজে বহাল করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁদের উপযুক্ত ডিগ্রি লাভ করে যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে হবে। কিন্তু সেই শর্তপূরণ করেননি অনেকেই। এখনও পর্যন্ত বেসরকারি স্কুলের ছ’ লক্ষ শিক্ষক ও সরকারি স্কুলের আড়াই লক্ষ শিক্ষক উপযুক্ত যোগ্যতা ছাড়াই এখনও শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন।

জাভড়েকর বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সম্প্রতি ‘স্বয়ম’ পোর্টাল চালু করেছে। এই পোর্টাল এই সব শিক্ষককে প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী পেতে সাহায্য করবে। শুধু এই পোর্টালই নয়, মন্ত্রক মোট ৩২টি ডিরেক্ট টু হোম টিভি চ্যানেলের ব্যবস্থাও করেছে। এই চ্যানেলগুলিতেও এই বিষয়ে পড়াশোনা শেখানো হবে। এইগুলিও ‘স্বয়ম’ আর ‘স্বয়মপ্রভা’র সঙ্গে সংযুক্ত। এর থেকে শিক্ষকরা যাবতীয় শিক্ষাসামগ্রী লাভ করবেন। এগুলো ঠিক শিক্ষাকেন্দ্রের মতো। একটা অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপের সাহায্যে এই শিক্ষাকেন্দ্রে পড়ুয়া শিক্ষকদের উপস্থিতি ঠিকঠাক ভাবে জানা যাবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন বিলও আনতে চলেছে যাতে করে পঞ্চম শ্রেণি আর অষ্টম শ্রেণিতে সফল হতে না পারলে পড়ুয়াদের পরবর্তী ক্লাসে তোলা হবে না। তাদের আবার পরীক্ষা দিতে হবে। এই পরীক্ষা হবে মে মাসে। তাতেও যদি তারা পাশ করতে না পারে, তা হলে আবার ওই একই ক্লাসে গোটা বছর পড়াশোনা করতে হবে।

তিনি বলেন, আরটিই-এর অধীনে শিক্ষার মান নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। অনেকেই মনে করেন, এর অধীনে শিক্ষা ঠিক মতো হয় না। সেই মতপার্থক্য ঘোচাতে এই সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here