শিক্ষা-সহ সব প্রতিষ্ঠানে বন্দেমাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট

0
266

তামিলনাড়ু : জাতীয় সঙ্গীতের পর এ বার বন্দেমাতরম।

তামিলনাড়ুর সব ক’টি স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তাহে কম করে একবার বন্দেমাতরম গান গাওয়া বাধ্যতামুলক করার নির্দেশ দিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সপ্তাহে সোমবার অথবা শুক্রবার এই গানের দিন নির্ধারিত করল হাইকোর্ট। মঙ্গলবার ওই নির্দেশে বলা হয়েছে, বন্দেমাতরম গানটি সংস্কৃত ভাষায় বাংলায় লেখা। রাজ্যের সব ক’টি সরকারি বা বেসরকারি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও সব দফতর, প্রতিষ্ঠান, কলকারখানায় মাসে অন্তত এক বার এই গান গাইতে হবে বা বাজাতে হবে। বৃহত্তর জনস্বার্থে এবং রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের মধ্যে দেশপ্রেমের ধারণা গড়ে তুলতে এই নির্দেশ দিলেন বিচারপতি এম ভি মুরলিধরন। বিচারপতি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি এই গান বাংলা বা সংস্কৃত ভাষায় গাইতে বা বাজাতে অসুবিধে বোধ করেন, তা হলে গানটি তামিল ভাষায় অনুবাদ করে নেওয়া যেতে পারে। বিচারপতি এ-ও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এই গান গাইতে বা বাজাতে সমস্যা হয় তা হলে তাকে এতে জোর করা বা বাধ্য করা হবে না। কেবলমাত্র তাঁকে সমস্যার কারণ কী তা জানাতে হবে। প্রসঙ্গত প্রতিটি স্কুলে বন্দেমাতরম বাধ্যতামূলক করা সংক্রান্ত একটি আবেদনের শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। সর্বোচ্চ আদালতে সেই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ আগস্ট।

কে বীরামণির করা একটি আবেদনের শুনানিতে এ দিন মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি বন্দে মাতরম সংক্রান্ত ওই নির্দেশ দেন। বীরামণি বিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য চাকরির লেখা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। আবেদনে বীরামণি জানান, শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের পরীক্ষায় বন্দেমাতরম গানটি কোন ভাষায় লেখা তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি উত্তর দেন, বাংলায়। কিন্তু বলা হয় তাঁর উত্তর ভুল হয়েছে। এক নম্বর কেটে নেওয়া হয়। তাঁকে ৮৯ নম্বর দেওয়া হয়। যেখনে ৯০ পেলে তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারতেন। ফলে তিনি এক নম্বর খোয়ান আর চাকরির সুযোগ হারান। তিনি জানান, একাধিক জায়গায় তিনি পড়েছেন বন্দেমাতরম সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছিল। কিন্তু টিচার রিক্রুটমেন্ট বোর্ড উত্তরের ক্ষেত্রে ভুল অপশন দিয়েছিল। সেখানে ঠিক উত্তর হিসেবে সংস্কৃত ভাষা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন বোর্ডের ভুলের জন্য তিনি তাঁর সুযোগ হারান। বিটি অ্যাসিস্ট্যান্টের চাকরি পেলেন না।

অন্য দিকে কে বীরামণির আবেদনের বিরোধিতা করে সরকারি আইনজীবী যুক্তি দেখান, বন্দেমাতরম প্রথমে সংস্কৃত ভাষায় লেখা হয়েছিল। পরে তা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।

এই বিতর্কের সমাধান করতে, অ্যাডভোকেট জেনারেলকে ঠিক উত্তর কী তা খুঁজে বার করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। সেই অনুযায়ী ১৩ জুলাই মামলার শুনানির দিন অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান বন্দেমাতরমের আসল ভাষা সংস্কৃত হলেও তা প্রথম লেখা হয়েছিল বাংলা হরফে। এর প্রেক্ষিতে সরকারকে শিক্ষক নির্বাচনের প্রক্রিয়াতে বীরামণির অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ দেন বিচারপতি।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here