কর্নাটক নির্বাচন: যে ‘আসল’ কারণে বিজেপিকে উড়িয়ে দিতে পারেন সিদ্দারামাইয়া

ওয়েবডেস্ক: এত দিন পর্যন্ত কন্নড়বাসী কখনও আবেগপ্রবণ হয়ে ভোট দেননি, কিন্তু ১২ মে দিতে পারেন। অন্য বছরের নির্বাচনে যে ব্যাপারটা চোখে পড়েনি, সেই ‘কন্নড় স্বাভিমান’ বা ‘কন্নড় গর্ব’ এই নির্বাচনে একটা বড়োসড়ো কারণ হয়ে উঠতে চলেছে। এখানেই বিজেপির থেকে অনেক এগিয়ে সিদ্দারামাইয়া।

কন্নড়বাসীরা এমনিতে নিজেদের সত্তার ব্যাপারে খুবই জাগ্রত। তবে এক বছর হল কন্নড়কে কেন্দ্র করে বেশ উগ্র আন্দোলন চোখে পড়ছে। সেই আন্দোলনকে কিন্তু কোনো উগ্রবাদী বা অতি জাতীয়তাবাদী কেউ নেতৃত্ব দিচ্ছেন না। ‘বনবাসী বলাগা’ এবং ‘কর্নাটক গ্রহকর কুটা’-এর ব্যানারে এই আন্দোলন সংগঠিত করছেন তরুণ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা।

নিজেদের কন্নড় সত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ডাক এতটাই বেশি প্রভাব ফেলেছে যে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরের ডিসপ্লে বোর্ডে এখন কন্নড় লেখা দেখা যায়, ট্রেনের টিকিতেও এখন ফুটে ওঠে কন্নড়। পাশাপাশি নিজেদের বেঙ্গালুরুগামী বিমানগুলিতে এখন কন্নড় ভাষায় নির্দেশিকা দেয় লুফতহানসা, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং ড্রাগন এয়ার। জল প্রস্তুতকারক বিসলেরিও এখন জলের লেবেলে কন্নড় ব্যবহার করে। এ ভাবে তালিকা আরও বড়ো করা যায়।

কিন্তু সব থেকে দুঃসাহসিক ব্যাপারটা তখন দেখা গিয়েছিল যখন কর্নাটক থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন বেঙ্কাইয়া নাইড়ু। রাজ্যবাসী বেঙ্কাইয়ার ওপরে এতটাই ক্ষুব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন যে টুইটারে প্রচার চালানো হয়, স্লোগান তোলা হয়, ‘অনেক হল বেঙ্কাইয়া’। মানুষদের দাবি ছিল রাজ্যের দিকে নজরই দিচ্ছেন না তিনি। বিজেপি এতে এতটাই চাপে পড়ে যায় যে তাঁকে তৎক্ষণাৎ রাজস্থান থেকে প্রার্থী করা হয়।

মানুষ যখন নিজেদের কন্নড় সত্তা নিয়ে আন্দোলনে, ঠিক সেখানেই সুযোগ খুঁজে পেয়ে যায় শাসক কংগ্রেস। গত বছর বেঙ্গালুরুতে মেট্রো স্টেশনে হিন্দি সাইনবোর্ড নিয়ে কন্নড়বাসীর যখন ক্ষোভে উত্তাল, তখন একটুও সময় নষ্ট না করে সেই বোর্ড খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন সিদ্দারামাইয়া। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিতে কন্নড়দের জন্য একশো শতাংশ সংরক্ষণ দাবি করেন তিনি। এখন তাঁর নতুন দাবি, কর্নাটকে দেওয়া পাসপোর্টেও যেন কন্নড় ভাষা থাকে।

আরও পড়ুন: কেন বিজেপি এবং কংগ্রেসের কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ কর্নাটক নির্বাচন?

কিন্তু যে ব্যাপারটা সব থেকে বেশি নজর কেড়েছে এবং সবাইকে চমকে দিয়েছে সেটা হল রাজ্যের জন্য আলাদা পতাকায় সিলমোহর দেওয়া। এই পতাকার স্বপক্ষে যা ব্যাখ্যা সিদ্দারামাইয়া দিয়েছিলেন তার বিরোধিতা কিন্ত বিজেপিও করতে পারেনি।

এখন বিজেপি যদি কর্নাটকের শাসন ব্যবস্থা, আইন কানুন নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সঙ্গে সঙ্গে কন্নড় সত্তাকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস। ঠিক এই জায়গাতেই প্যাঁচে পড়ে গিয়েছে বিজেপি। তাদের মূল মন্ত্র এখন ‘এক দেশ নীতি’। কর্নাটকে ‘হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের’ বিরোধিতা এবং কন্নড় সত্তার কাছে বিজেপির সেই মন্ত্র এখন ব্যাকফুটে।

এক দিকে যখন বিজেপি মনে করে এই ধরনের প্রাদশিকতা মানুষের মধ্যে ভেদাভেদের সৃষ্টি করবে, তখন সিদ্দারামাইয়া মনে করেন ঠিক উলটো। কংগ্রেসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতার মধ্যে দিয়েই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই প্রাদেশিকতা ইস্যুতে সব থেকে ফায়দা তুলতে পারত আঞ্চলিক দল জেডিএস। কিন্তু যে কোনো কারণেই হোক, তারা এই ব্যাপারে কখনও কিছু মন্তব্যই করেনি।

এক মাসের কিছু পরেই নির্বাচন। এই আবহে কন্নড় সত্তা কতটা কাজ করে সেটাই দেখার। কিন্তু মানুষ যদি কন্নড় সত্তাকেই প্রাধান্য দিয়ে ভোট দেন তা হলে বিজেপির ভরাডুবি কার্যত নিশ্চিত।

সৌজন্য:মানিকন্ট্রোল.কম

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.