শাহজাহানপুর (উত্তরপ্রদেশ): বিভিন্ন মহল থেকে শত শত চাপ। তবুও নিজের বয়ানে অটুট ছিলেন আসারাম মামলায় মূল সাক্ষী নিগৃহীতা তরুণী। আসারাম এবং তাঁর সঙ্গীরা যখন তাঁকে ধর্ষণ করেন তখন মাত্র ১৬ বছরের ছিলেন তিনি।

তরুণীর বাবা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়েছে এবং পুরোনো স্মৃতি আর মনে করতে চায় না সে। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে তার কর্তব্য পালন করেছে। প্রথম থেকেই নিজের বয়ানে অটুট ছিল আমার মেয়ে।”

গত কয়েক বছর ধরে তরুণীর পরিবার দেখেছে কী ভাবে একের পর এক সাক্ষীর ওপরে আক্রমণ করা হচ্ছে। কী ভাবে কয়েক জনকে খুনও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ন’জন সাক্ষীকে আক্রমণ করা হয় যাঁদের মধ্যে নিহত হন তিন জন।

এই সবের মধ্যেও ঘাবড়ে যাননি ওই তরুণী। তরুণীর পরিবার এবং আইনজীবীর দাবি, এক মাস ধরে টানা আদালতে হাজিরা দিয়ে গিয়েছেন ওই তরুণী। মোট ১৬৪টা সেশনে হাজির ছিলেন তিনি এবং কখনোই নিজের বয়ান থেকে এক চুলও নড়ানো যায়নি তাঁকে। তরুণীর বাবা বলেন, “আমাদের কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল তারা। আমরা অসম্ভব চাপে ছিলাম, কিন্তু দমে যাইনি। কিন্তু সাক্ষীদের যে ভাবে মারা হয়েছে সেটা আমাদের আতঙ্কে রেখেছিল।”

আসারাম মামলার অন্যতম মূল সাক্ষী কৃপাল সিংহকে ২০১৫ সালে তরুণীর বাড়ির কাছেই গুলি করে খুন করা হয়। এই খুনের অভিযোগে ধৃত আসারামের একটি ভক্ত কার্তিক হালদার। শুধু সাক্ষীদের নয়, সাংবাদিকদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছিল মামলার শুনানি চলাকালীন।

নিগৃহীতার পরিবারের দাবি, ২০১৩-এর আগস্টে তাদের মেয়েকে আসারামের আশ্রমের পাঠানোর জন্য তাদের ওপর ছলে বলে কৌশলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। তার পরের মাসেই ধর্ষণের অভিযোগ করেন ওই তরুণী।

শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে যে চাপ সহ্য করে সেই দিনের নাবালিকা নিজের বয়ানে এককাট্টা ছিলেন, তারই বিচার পেলেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here