ওয়েবডেস্ক: ২২২ আসনের ছোটো রাজ্যটি ভারতীয় রাজনীতিতে কখনওই তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। গত শতকের আশির দশক থেকে সে রাজ্যে কংগ্রেসের একাধিপত্যে থাবা বসাতে শুরু করে তৎকালীন অবিভক্ত জনতা দল। ১৯৮৩ সালে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন জনতা দলের রামকৃষ্ণ হেগড়ে। সেই শুরু। তারপর থেকে কর্নাটকের ক্ষমতার বিপ্রতীপেই থেকে গেছে দিল্লির রাজনীতি। মাঝের এক চমকপ্রদ ব্যতিক্রম ছাড়া।

১৯৮৯ সালে সে রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে কংগ্রেস। কিন্তু সেবারের লোকসভা ভোটে দিল্লিতে হেরে যায় কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী হন জনতা দলের বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং। যদিও সেই জোটের সরকার ভেঙে যায় ১৯৯১ সালে। দিল্লিতে ক্ষমতায় আসে কংগ্রেসের সরকার। প্রধানমন্ত্রী হন পিভি নরসিংহ রাও। এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে কর্নাটকে ক্ষমতা বাড়াতে থাকে বিজেপি।

১৯৯৪ সালে কর্নাটকে আসীন হয় জনতা দলের সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হন এইচডি দেবেগৌড়া।  কিন্তু সে সময় লোকসভা ভোট ছিল না। সেই ভোট হয় ১৯৯৬ সালে। কর্নাটকের ইতিহাসে সেই ভোট এক চমকপ্রদ পরিবর্তন নিয়ে আসে। কেন্দ্রের মিলিজুলি সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদে জ্যোতি বসুকে নিয়ে আসতে সিপিএম রাজি না হওয়ায়, প্রধানমন্ত্রী হন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রের রাজনীতিতে অপরিচিত দেবেগৌড়া। সেই ঘটনা কর্নাটককে হঠাৎই গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে ভারতীয় রাজনীতিতে।

১৯৯৯ সালের বিধানসভা ভোটে ফের কর্নাটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় কংগ্রেস। ইতিমধ্যে এক অঙ্কের গণ্ডি পেরিয়ে সে রাজ্যে চল্লিশের ঘরে আসন পেতে শুরু করেছে বিজেপি। সে বছরই কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে প্রথম এনডিএ সরকার। প্রধানমন্ত্রী হন অটল বিহারী বাজপেয়ী।

আরও পড়ুন: কর্নাটকে আসন বাড়লেও ভোট ব্যাঙ্কে বড়োসড়ো ধস নামল বিজেপির

২০০৪ সালের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পায় বিজেপি(৭৯)। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় প্রাথমিক ভাবে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার তৈরি হয়। বছর দেড়েক পরেই অবশ্য সেই সরকার ভেঙে যায়। তৈরি হয় জেডিএস-বিজেপির জোট সরকার। ২০০৪ সালে কর্নাটকে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হলেও কেন্দ্রে হেরে যায় বাজপেয়ীর জল। তৈরি হয় প্রথম ইউপিএ সরকার।

জোট সরকার ভেঙে যাওয়ায় ২০০৯ সালের বদলে ২০০৮ সালে বিধানসভা ভোট হয় কর্নাটকে। সেই প্রথম সে রাজ্যে একার শক্তিতে সরকার গড়ে বিজেপি। যদিও পরের বছর অর্থাৎ ২০০৯ সালে কেন্দ্রে থেকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার।

২০১৩ অর্থাৎ গত বিধানসভা নির্বাচনে কর্নাটকে একক ভাবে ক্ষমতা দখল করে কংগ্রেস। অথচ পরের বছরই দেশ জোড়া মোদী ঝড়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে বিজেপি।

এবার আবার কর্নাটকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিজেপি। পরের বছর লোকসভা নির্বাচনে কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পারবে তাঁরা। নাকি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে নরেন্দ্র মোদীকে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও এক বছর।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন