mayawati

ওয়েবডেস্ক:  উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও চরম হারের সম্মুখীন হয়েছিল সমাজবাদী পার্টি। তাই বলে অখিলেশ যাদব বা রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক সম্পর্কে ছেদ পড়েনি। ঠিক একই ভাবে বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতীর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক নিয়ে যত সমালোচনাই চলুক না কেন, বিএসপি-এসপি জোট বিজেপির বিরুদ্ধে সমান্তরাল ভাবেই এগিয়ে যাবে বলে একটি সাক্ষাৎকারে জানালেন অখিলেশ।

অখিলেশ স্পষ্টতই স্বীকার করে নেন, রাজ্যের দু’টি লোকসভা আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল দেখার পর তাঁরা উভয় দল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আগামী দিনে এই সমঝোতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সব রকমের চেষ্টা করা হবে। তার পরেও রাজ্যসভা নির্বাচনে মায়াবতীর প্রার্থীকে সম্পূর্ণ সমর্থন দিয়ে জিতিয়ে নিয়ে আসতে পারেনি এসপি। যে কারণে দুই দলের মধ্যে সম্পর্কে চিড় ধরতে চলেছে বলে বিজেপির তরফে প্রচার করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অখিলেশ বলেন, “এই পরাজয় আমাদের আগামী পরিকল্পনাকে আরও শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। আমরা বুঝে গেছি এই যৌথ শক্তি আদতে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে শাসক দলের কাছে। ফলে এই অস্ত্রকে আরও ধারালো করে তোলা হবে। তার জন্য যদি আমাকে দু’কদম পিছিয়ে আসতে হয়, আমি রাজি”।

অখিলেশ বলেন,  “আমাদের দুই দলের সমঝোতা ক্ষমতাসীন বিজেপিকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ফলে এই জোটের স্বার্থে আমি পুরনো পন্থা থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমি বাস্তবকে মেনে নিতে  প্রস্তুত … আমার পক্ষ থেকে, আমি জানি এই জোট চালাতে হবে কারণ এই জোট বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমি দুই পা পিছিয়ে যাই, তবেই আমি এটা করতে পারব”।

গত বিধানসভা নির্বাচনে এসপি-কংগ্রেস জোট হওয়ায় আরও ভালো ফলের প্রত্যাশা করেছিল দুই দলই। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এসপি ৩০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কংগ্রেসকে ছাড়ে মাত্র ১০০টি আসন।  ৪০৩ আসনের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ৩২৫টি আসনে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। ওই আসন বিন্যাস কতটা ঠিক বা কতটা ভুল ছিল তা না উল্লেখ করলেও অখিলেশ বলেন, আসন বণ্টনের বিষয়ে এ বার অতীত অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগানো হবে। নিজের দলের হাতে বেশি সংখ্যক টিকিট ধরে রাখার কঠোর নীতি থেকে সরে আসাটাই বাস্তবজ্ঞানের পরিচায়ক বলে মনে করছেন তিনি।