gauri lankesh

ওয়েবডেস্ক : যে বন্দুকে গৌরী লঙ্কেশকে হত্যা  করা হয়েছে, সেই একই ৭.৬৫ এমএম-এর বন্দুকে হত্যা করা হয়েছিল এমএম কালবুর্গিকে। তা ছাড়াও মহারাষ্ট্রের যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ গোবিন্দ পানেসারের হত্যার সময় যে দু’টি বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল তার একটির সঙ্গে এই বন্দুকের মিল রয়েছে। অর্থাৎ গত ৩০ মাসে তিনটি খুনের ঘটনায় একই বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছে। লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক ফরেনসিক বিশ্লেষণে এমনটাই উঠে এসেছে। এই তথ্য বিশেষ তদন্তকারী দলকে (সিট) জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর গাড়ি রেখে নিজের বাড়িতে ঢোকার সময় রাত ৮টায় সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশকে লক্ষ করে গুলি করে আততায়ী। অন্য দিকে ২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট বাড়ির দরজার ঘণ্টা বাজিয়ে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে খুন করা হয় কালবুর্গিকে। এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্দুকের গুলি আর খালি খোলের নমুনা থেকে এই দু’টি ঘটনায় একই আততায়ী দলের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছে লঙ্কেশ হত্যা মামলার বিশেষ তদন্তকারী দলটি।

ঘটনাস্থল থেকে ৩টি বুলেট ও ৪টি গুলির খোল খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। তিনটে বুলেটের দু’টি লঙ্কেশের হার্ট আর ফুসফুস ভেদ করে বেরিয়ে যায়। একটি নিশানাচ্যুত হয়।

গুলির খোলের ওপরের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এর থেকেই দু’টি মামলার যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। তা ছাড়াও এই দু’টি ঘটনার সঙ্গে যে গোবিন্দ পানেসারের হত্যার যোগসূত্র রয়েছে তা-ও উঠে আসছে।

২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৮১ বছরের গোবিন্দ পানেসারে আর তাঁর স্ত্রী উমা পানেসারের ওপর গুলি চালানো হয়। ঘটনায় স্ত্রী বেঁচে গেলেও, মারা যান পানেসারে। ফরেনসিক অনুসন্ধানে জানা যায়,  ওই দিন ৭.৬৫ এমএম-এর দু’টি দেশি বন্দুক থেকে গুলি চালায় আততায়ী। তার মধ্যে একটি ছিল লঙ্কেশ হত্যার ওই ৭.৬৫ এমএম বন্দুক। অর্থাৎ একটি বন্দুকই ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি আলাদা আলাদা খুনের কাজে।

পানেসারের হত্যার দিন ব্যবহার করা আর একটি বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল ৬৯ বছরের যুক্তিবাদী দাভোলকর হত্যায়। ২০১৩ সালে পুনেতে এক মোটরবাইক আরোহী দাভেলকারকে লক্ষ করে গুলি করে।

দাভেলকার আর পানেসারের হত্যা মামলার তদন্তে তদন্তকারী দু’টি দলের কাছেই সনাতন সংস্থা নামের একটি দলের বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে কালবুর্গি মামলায় এখনও তেমন কোনো তথ্য হাতে আসেনি তদন্তকারীদের।

তবে বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে প্রতিটি ঘটনার তদন্তকারীরা একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। সেইমতোই ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি বৈঠকও করা হয়েছিল। এই মর্মে স্কটল্যান্ডের একটি ফরেনসিক গবেষণাগারে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু মিলিত আবেদনের অভাবে ওই সংস্থা তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করতে পারেনি। এর পর গুজরাতের ফরেনসিক গবেষণাগারেও তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গুজরাতের সংস্থাটি জানিয়েছে তিনটি ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here