নয়াদিল্লি : রেলের পঠনপাঠনের জন্য ‘ন্যাশনাল রেল অ্যন্ড ট্রান্সপোর্ট ইউনিভার্সিটি’ গড়ে উঠতে চলছে গুজরাতের বডোদরায়। সম্প্রতি এই মর্মে সম্মতি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এটাই হবে শুধুমাত্র রেল সংক্রান্ত বিষয়ে পঠনপাঠনের জন্য তৈরি প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৮ সালের জুলাই মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। সেই দিকে নজর রেখে আগামী বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সেরে ফেলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ‘ন্যাশনাল রেল অ্যন্ড ট্রান্সপোর্ট ইউনিভার্সিটি’ ‘ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে গণ্য হওয়ার নির্দেশাবলি) রেগুলেশন ২০১৬’-র অধীনে ডি নোভো ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন হাজার পূর্ণ সময়ের পড়ুয়া থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘কোম্পানি অ্যাক্ট ২০১৩’-র আট নম্বর অধ্যায় অনুযায়ী রেল মন্ত্রক একটি অ-লাভ জনক সংস্থা হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তুলতে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক আর পরিকাঠামোগত সাহায্য-সহ যাবতীয় দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকেরই হাতে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় রেলের সামগ্রিক উন্নয়নে সাহায্য করবে। বাড়বে রেল কর্মীদের কর্মদক্ষতাও। এর ফলে রেলের সময়ানুবর্তিতা, যাত্রী নিরাপত্তা ও পরিষেবার উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রচেষ্টা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র ক্ষেত্রে ব্যাপক সাহায্য করবে। ভারতকে ‘নিউ ইন্ডিয়া’-র পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের পরিবহণের ক্ষেত্রে এই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় একটা নজির তৈরি করবে।

তা ছাড়া এ কথাও বলা হয়েছে, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ আর ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’-র সাফল্যের ক্ষেত্রেও এই বিশ্ববিদ্যালয় যথেষ্ট সাহায্য করবে।

রেলের পরিষেবা আর যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে যখন চার দিকে নানান অভিযোগ উঠছে। মানুষের মনে অসন্তোষের ফল্গু ধারা বয়েই চলেছে ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে আরও একটা খুড়োর কল তৈরির পরিকল্পনায় শিলমোহর পড়ল। এটা ঠিক একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় মানে পঠনপাঠন আর জীবিকার সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে একটা ইতিবাচক দিক। কিন্তু যে আশার আলো দেখিয়ে সূচনার কাজ চলছে সেই আশা কতটা বাস্তবায়িত হবে তা তো ভবিষ্যতই বলে দেবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here