নয়াদিল্লি : দুনিয়া জুড়ে মেড ইন ইন্ডিয়ার ঢাক পেটানো হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে দেশে বুলেট ট্রেন চালু করে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নপূরণ করার চেষ্টা চলছে। অথচ দেশের সম্পদরক্ষার কাজে ভাঁড়ে মা ভবানী। প্রায় প্রতি দিন লেগে আছে ট্রেন দুর্ঘটনা। যাত্রীপরিষেবা, ট্রেন লাইনের দেখভাল এ সব কাজে তো রেলের তরফে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ও দিকে নানা ছলছুতোয় বাড়ছে যাত্রীভাড়াও।

ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের কাছে যাত্রীসুরক্ষার বিষয়টি যে কত গুরুত্বহীন তার প্রমাণ প্রতিনিয়ত মেলে। এ বার তা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল ১২ ঘণ্টায় চারটি ট্রেন দুর্ঘটনায়। হ্যাঁ, বিশ্বাস হচ্ছে না তো? মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ে চার চারটে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল। তার মধ্যে ৩টে উত্তরপ্রদেশে, ১টা  ওড়িশায়। এই চারটি ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৭। আহত হয়েছেন ১১ জন।

প্রথম দুর্ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ। অমেঠির কাছে একটি প্রহরাবিহীন লেভেল ক্রসিং-এ  বোলেরো গাড়িকে ধাক্কা মারে একটি লোকাল ট্রেন। দুর্ঘটনায় চার জন মারা যান। দু’ জন আহত হন।

এর আট-ন’ ঘণ্টার মধ্যে ফের দুর্ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের চিত্রকূট জেলায় মানিকপুর স্টেশনে ভাস্কো দা গামা-পটনা এক্সপ্রেস লাইনচ্যূত হয়। সময় শুক্রবার ভোর ৪টে ১৮ মিনিট। এই ঘটনায় মারা যান তিন জন। আহতের সংখ্যা নয়। এই সময় ট্রেনের গতি ছিল ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার।

রেলের এক আধিকারিক বলেন, এই দুর্ঘটনা বুঝিয়ে দিল যে রেলের রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি রয়ে যাচ্ছে। প্রমাণ হয়ে গেল রেল লাইনের ফাটল খুঁজে বের করার জন্য আল্ট্রাসোনিক ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে না। শীতকালের তাপমাত্রার পরিবর্তন হয়। তাতে রেললাইনে ফাটল বা ফাঁক তৈরি করে। এই ফাঁকের কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। সেই ফাটল খুঁজে বার করতেই এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

অন্য এক জন আধিকারিক বলেন, লাইনগুলো খারাপ হয়ে গেছে। এই সময় ভেজাও থাকে। তিনি বলেন, এ বার রেল লাইনগুলো বদলানো দরকার। রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ নজর দেওয়ার সময় এসেছে।

উত্তরপ্রদেশের দুর্ঘটনার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে আর একটা দুর্ঘটনা, এ বার ওড়িশায়। শুক্রবারই পারাদ্বীপ-কটক লাইনে একটি মালগাড়ির ১৪টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এখানে হতাহতের কোনো খবর না থাকলেও ট্রেন চলাচল দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয়।

একটু পরেই ঘটে চতুর্থ দুর্ঘটনা। সেই উত্তরপ্রদেশে। সাহারানপুরের কাছে জম্মু-পটনা অর্চনা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনটি ট্রেন থেকে আলাদা হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, একটা পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ বছরে ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যা ১৩৯৪টা। তার মধ্যে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে যাত্রীমৃত্যুর সংখ্যা ৪৫৮। ২০১৬-১৭ সালে রেল দুর্ঘটনার সংখ্যা সর্বাধিক। ২০১৭-১৮ সালে এখনও পর্যন্ত এই সংখ্যা ১১, তার মধ্যে লাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা ১০। এই ১০টিতে মৃতের সংখ্যা ৪৭।

রেলের কাজের নামে ট্রেনের গতি কমিয়ে আনা হচ্ছে। যাত্রীদের সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। বাঁধা সময়ের থেকে বেশি সময় লেগে যাচ্ছে গন্তব্যে পৌঁছতে। তা সত্ত্বেও ট্রেন দুর্ঘটনাকে এড়ানো যাচ্ছে না।

এমনই যদি চলতে থাকে তা হলে আগামী দিনের বুলেটের হালও তো কি একই হবে?। তা হলে তো ক্ষতির পরিমাণ কল্পনা করাও দুঃসাধ্য হয়ে পরবে। কারণ অভ্যাসই তো ভবিষ্যত গড়ে তোলে।

এ দিনের প্রত্যেকটা ঘটনাই আবারও ট্রেন সফরের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে দিল। এখনও কি নড়ে বসার সময় আসেনি? প্রশ্ন সক্কলের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here