badruddin ajmal aiudf

গুয়াহাটি: বুধবার অসমের বিজেপি এবং এআইইউডিএফকে নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়িয়েছেন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। তাঁর বক্তব্যকে মুসলিম বিদ্বেষী বলেও মনে করছে বেশকিছু মহল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েও মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়িয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফের) প্রধান বদরুদ্দিন আজমল। সাফ জানিয়ে দিলেন ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশী আখ্যা দেওয়ার থেকে অপমানজনক আর কিছু নেই।

বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে আজমল বলেন, “আমার মনে হচ্ছে সেনাপ্রধানের কাছে ভুল তথ্য পৌঁছেছে। আমরা শুধুমাত্র মুসলিমদের দল নই, আমরা হিন্দুদেরও প্রার্থী করেছি।” তিনি বলেন, “দেশের নিরাপত্তাবাহিনী যদি বলে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তাহলে সত্যিই হচ্ছে। কিন্তু এতে আমাদের কী করার আছে? আমরা তো সাধারণ মানুষের অন্য একটা রাজনৈতিক দল।”

উল্লেখ্য, আজমলের দলের মূল ভোটব্যাঙ্ক নিম্ন অসমের চারটে জেলা গোয়লপাড়া, ধুবুরি, বঙ্গাইগাঁও এবং বরপেটা। আবার এই চারটে জেলাতেই সব থেকে বেশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এআইইউডিএফ নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করুক, নিম্ন অসমের বাঙালিভাষী মুসলিমদের ‘স্বার্থ রক্ষার’ জন্যই এই দলের জন্ম হয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞ মহলের মত। আবার কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই অঞ্চলের বাঙালি মুসলিমদের গায়ে ‘বাংলাদেশী’ তকমা সাঁটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে অসম সরকারের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার তাই আজমল বলেন, “ভারতীয় নাগরিকদের যদি বাংলাদেশি আখ্যা দেওয়া হয়, তাহলে তার থেকে বড়ো অপমানকর আর কিছু হয় না।”

বিজেপির থেকে দ্রুত গতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে এআইইউডিএফ, সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য পুরোপুরি খারিজ করে দেন আজমল। তিনি বলেন, “আমরা কখনোই বিজেপির থেকে দ্রুতগতিতে বাড়িনি। এই রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ৩৪ শতাংশ। আমরা মুসলিমদের দল হলে ৩৪ শতাংশ ভোটই তো পেতাম। কিন্তু সেটা তো কখনোই হয়নি।” তিনি বলেন, অনেকের ধারণা ছিল অসম ‘ইসলামিস্তান’-এ পরিণত হবে। সেটা কিন্তু কোনোদিনও সত্যি হয়নি।

সাংবাদিক বৈঠক শেষ করার আগে অজমল বলেন, “সেনাপ্রধান বিজেপি/আরএসএসের লাইনে কথা বলছেন। জওয়ান থাকুক জওয়ানই আর রাজনৈতিক দল থাকুক রাজনৈতিক দলই।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন