lynching

ওয়েবডেস্ক: গত জুনে, তাঁর ষোলো বছরের ছেলেকে পিটিয়ে মেরেছে চার জন। সেই জুনাইদ খানের বাবা জালালউদ্দিনের আক্ষেপ, “কোথাও ন্যায় বিচার নেই।” কিছু দিন আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।

জালালউদ্দিনের কথায়, তাঁর পৃথিবী ক্রমশ অন্ধকার হয়ে আসছে। তাঁর স্ত্রী অসুস্থ, ছোটো ছেলে মৃত, বাকি দুই ছেলে সেই নৃশংস আক্রমণের দুঃস্বপ্ন এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাঁকে আদালতের তারিখ অনুযায়ী ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। এই সবের মধ্যেই গত সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি।

তাঁর কথায়, জুনাইদকে পিটিয়ে মারার অভিযোগে ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চার জনের জামিন হয়ে গিয়েছে। সেই নিয়ে চিন্তা করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। কোনো সরকারি হাসপাতালে স্থান না পেয়ে, নয়ডায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর। সফল ভাবে অস্ত্রোপচারও হয়েছে। আপাতত ক্ষতিপূরণ এবং অনুদানের টাকাতেই ভরসা করতে হচ্ছে এই পরিবারকে।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জালালউদ্দিন বলেন, “যে চার জন জামিন পেয়ে গিয়েছে, তাদের কথা ভাবতে ভাবতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছি।” এর পর আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “কোথাও ন্যায় নেই।”

টিআই প্যারেডের সময়ে ওই চার জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছিলেন জুনাইদের দাদা হাসিব। জালালউদ্দিনের কথায়, “আমাদের আয় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র দয়ালু ব্যক্তিদের দানের টাকাতেই জীবন চলছে। জুনাইদকে হারানোর আঘাত এখনও আমরা কাটিয়ে উঠতে পারিনি।”

কিছু দিন আগেই তাঁর বাড়িতে একটি সভা করে সিপিআইএম। সভা শেষে জালালউদ্দিনের হাতে দশ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়। পৃথক ভাবে দশ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে হরিয়ানা সরকারও। কিন্তু এই টাকায় কত দিন? জালালউদ্দিনের চিকিৎসার পেছনেই সব টাকা চলে যাচ্ছে। এখনও অনেক টাকা দিতে হবে হাসপাতালকে যেটা তাদের কাছে নেই।

সাংবাদিক তথা সমাজকর্মী কিরন শাহিন বলেন, “জুনাইদের পরিবার হাসপাতালের প্রাথমিক খরচ দিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এখনও অনেক টাকা দিতে হবে। এই খরচ বহন করার জন্য সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানাচ্ছি।”

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here