শিশুকন্যা জন্মালে উৎসব করে এই সম্প্রদায়, কারণ জানলে শিউরে উঠবেন

0

নিমুচ (মধ্যপ্রদেশ): দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-এর স্লোগান। আমাদের রাজ্যে কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো নানা প্রকল্প। দিকে দিকে কন্যাভ্রূণ হত্যা  নিয়ে নানান প্রচারের জোয়ার। তার অনেক আগে থেকেই শিশু কন্যার জন্মের পর রীতিমতো উৎসব পালন করে আসছে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ। সম্প্রদায়ের নাম বাঞ্ছাড়া। এরা মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা। বিশেষ করে মান্দাসৌর, নিমুচ আর রাতলাম জেলায় এদের বসবাস।

আসলে মেয়ের জন্মে খুশি হওয়ার কারণটা কিন্তু অন্য। কারণ মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে তারা মনে করে পরিবারের আরও এক জন অন্নদাতার জন্ম হল। এই মেয়ে বড়ো হয়ে অর্থ উপার্জন করবে। সকলের মুখে অন্ন তুলে দেবে। এমন কি পরিবারের পুরুষ সদস্যদের মুখেও। আর এর জন্য তাকে দেহব্যবসায় নামানো হয়। এই ভাবে অন্ন তুলে দেওয়ার দায়িত্ব অবশ্য তার ঘাড়ে এক প্রকার চাপিয়েই দেওয়া হয় ছোটোবেলা থেকেই। সেখানে তার ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন তোয়াক্কা করা হয় না। সেই ভাবেই তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বড়ো করে তোলা হয়।

‘নাই আভা সামাজিক চেতনা সমিতি’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আধিকারিক আকাশ চৌহান বলেন, বংশ পরম্পরায় এই ব্যবসা করে আসছে এরা। এই এলাকায় দেহ ব্যবসা সামাজিক স্বীকৃতিও লাভ করেছে। নাই আভা এদের জীবনের মান উন্নতির জন্য কাজ করে।

আকাশ বলেন, এই সব পরিবারের পুরুষরা বাধ্য করেন মহিলাদের এই কাজ করতে। আর তারা মহিলাদের রোজগারের পয়সায় বসে খান। এই ভাবে জোর করে এই ব্যবসা করানো হয়। আর তা আইনের চোখে অন্যায়, অপরাধ।

একটি পরিসংখ্যানের কথা বলেন আকাশ। তাতে দেখা গিয়েছে, এখানের তিনটি জেলার ৭৫টি গ্রামে ছড়িয়ে গিয়েছে এই সম্প্রদায়ের লোক। প্রায় ২৩ হাজার সদস্য। তার ৬৫%-ই হল মহিলা। ২০১৫ সালের মধ্যপ্রদেশের মহিলা ক্ষমতায়ণ বিভাগের একটি শুমারিতে দেখা গিয়েছে, মান্দাসৌরের ৩৮টি গ্রামের ৩৪৩৫ জন এই সম্প্রদায়ের মানুষ আছে। তার মধ্যে ২২৪৩ জন মহিলা, ১১৯২ জন পুরুষ। মহিলা পুরুষের সংখ্যার দ্বিগুন। শুধু এটাই নয়। এমন বেশ কিছু পরিসংখ্যানেই বিভিন্ন সালে দেখা গিয়েছে মহিলাদের সংখ্যা আশ্চর্যজনক ভাবে পুরুষদের তুলনায় বেশি। একই ঘটনা অন্য দু’টি জেলার ক্ষেত্রেও।

আকাশ বলেন, এরা মহিলাদের বাঁচিয়ে রাখে, গুরুত্ব দেয় কিন্তু ভুল বা বলা ভালো খারাপ উদ্দেশ্যে। এমন কি তাদের এই উদ্দেশ্য পূরণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানব মূলত শিশু কন্যা চোরা চালানকারীর কার্যকলাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। দেশের  বিভিন্ন রাজ্য থেকে ২০০ থেকে ১০০০০ টাকায় তারা ছোটো মেয়েদের কিনে নেয়। তাদের পরিবারে রেখে বড়ো করে আর তার পর দেহ ব্যবসায় নামায়।

আইনজীবী অমিত শর্মা বলেন, এটি দেশের জন্য সাংঘাতিক ক্ষতিকর। একটি ঘটনার উল্লেখ করে আমিত বলেন, একটি তল্লাশিতে এক বার নিমুচে এদের একটি পরিবার থেকে ছয় বছরের একটি মেয়ে উদ্ধার হয়। পরিবারের এক জন মহিলা বলেফেলেন, ২০০৯ সালে একে তারা উজ্জয়নের নাগড়া থেকে কিনেছে। লেনদেনের সময় ৫০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে সইসবুদও হয়। পরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।

অমিত জানিয়েছেন, বাঞ্ছাড়ারা এই মেয়ে কেনাবেচার কাজটি খুব পরিকল্পনা মাফিক করে। দালালের মাধ্যমে কাজটি হয়। এই মেয়ে কেনাকে তারা একটি ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে দেখে। তবে টাকা দিয়ে কেনা এই শিশুদের তারা ঠিক ভাবে যত্ন করে না।

এই বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানব পাচারকারীদের ব্যাপারে যাবতীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকেও সাবধান করা হচ্ছে। অর্থ বা কোনো কিছুর বিনিময়েই যাতে এই লেনদেন না হয় তার জন্য সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

নিমুচ জেলার এসপি টি কে বিদ্যার্থী বলেন, সমীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এই সব এলাকায় জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ভালো পেশায় আগ্রহী করা, বিশেষ করে ছোটো মেয়েদের পড়াশোনা আর প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় বসার জন্য মানসিক আর শিক্ষাগতভাবে উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.