নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: তিন তীর্থযাত্রীর মৃত্যু এবং বিস্তর অভিযোগের জেরে বড়ো ধাক্কা খেল গুয়াহাটি থেকে রওনা হওয়া আস্থা ট্রেন।

দেশের বিভিন্ন জনপ্রিয় তীর্থস্থানে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল এবং আইআরসিটিসি ‘আস্থা সার্কিট ট্যুরিস্ট ট্রেন’ চালু করেছে। এ রকমই একটি আস্থা ট্রেন ৯ মে রাতে কামাখ্যা থেকে রওনা হয়। গন্তব্য ছিল, উত্তর ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান। ৫৪৭ জন যাত্রী ছিল ট্রেনটিতে। যাত্রী পিছু ছয় থেকে আট হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। যাত্রাপথে তিন জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। প্রথম জন মথুরায়, দ্বিতীয় জন বৃন্দাবনে এবং তৃতীয় জন লখনউয়ে মারা যান। এ ছাড়াও নানা অব্যবস্থায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ ‘ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক’ বলে দায় সেরেছে।

আইআরসিটিসির যুগ্ম জেনারেল ম্যানেজার এস আনোয়ার করিম জানান, প্রথমে হরিদ্বারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন গুয়াহাটির বিনোদকুমার গুইন (৭৫)। এক দিন হাসপাতালে রাখার পরে তাঁকে ছাড়া হয়। পরের দিন আম্বালায় গিয়ে তাঁকে ডাক্তার দেখানো হলে ডাক্তার তাঁকে বিশ্রাম নিতে বলেন। কিন্তু তিনি যাত্রা চালিয়ে যান। ১৫ মে ট্রেন মথুরায় গেলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু স্টেশনের আশপাশে কোনও চিকিৎসক না থাকায় তাঁকে শহরের হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরের দিন রুনুমি হাজরিকা (৬১) অসুস্থ হয়ে বৃন্দাবনের মহেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। লখনউতে মারা যান উপেন ডেকা (৬৩) নামে আরও এক ব্যক্তি। তাঁরা উত্তর গুয়াহাটি ও বাইহাটার বাসিন্দা। করিম জানান, যাত্রীরা বয়স্ক ছিলেন। উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। তার মধ্যে প্রচণ্ড গরমে যাত্রীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। যে যখন অসুস্থ হয়েছেন চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের অনেকেই এখনও অসুস্থ। বরেলিতে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, পুরোনো কামরা জুড়ে চালানো হচ্ছে ট্রেনটি। শৌচালয় সাফ করা হচ্ছে না। ট্রেনে পর্যাপ্ত জল নেই। দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ না থাকায় পাখা চলছে না। তার উপরে উত্তর ভারতের তীব্র গরমে অনেক বয়স্ক লোক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ট্রেনের অব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে আগ্রায় রেলকর্মীদের বাদানুবাদ হয়। যাত্রীদের দাবি, এত জন বৃদ্ধকে নিয়ে তীর্থযাত্রায় বেরোলে ট্রেনেই চিকিৎসক ও জীবনদায়ী ওষুধ রাখা দরকার ছিল। প্রচণ্ড গরমে সব স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল ট্রেন। কোথাও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোয় গরম অসহ্য হয়ে উঠেছে। ট্রেন চলেছেও ধীরে। রেল প্রতিমন্ত্রী রাজেন গোঁহাইকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আইআরসিটিসির আঞ্চলিক ম্যানেজার পি কে দত্ত জানান, যা ঘটেছে দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু পুরো ট্রেন এসি করলে টিকিটের দাম সবার সাধ্যের মধ্যে থাকত না। পরের বার যাত্রার আগে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে।

ট্রেনটি পর্যটনের জন্য আইআরসিটিসিকে ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দায়িত্ব সেরেছেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখপাত্র প্রণবজ্যোতি শর্মা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন