asaram bapu, jodhpur sessions court

ওয়েবডেস্ক: ২০১৩-এর সেপ্টেম্বরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুকে। এর পরেই আসারামের আরও মুখোশ খুলতে শুরু করে। কিছু দিনের মধ্যে সুরাতের দুই মহিলা অভিযোগ করেন আসারাম এবং তাঁর ছেলে নারায়ণ সাই, তাদের দু’জনকে ১৯৯৭-এ অমদাবাদে এবং ২০০৬-এ সুরাতের আশ্রমে ধর্ষণ করেছিল। এই সবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে মামলা চলেছে। এরই মধ্যে খুন হয়েছেন তিন জন সাক্ষী। আসারামের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় আরও অনেক সাক্ষীকেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। দেখে নেব সেই সব ঘটনার একটি কালপঞ্জি।

সেপ্টেম্বর, ২০১৩– জোধপুর দায়রা আদালতের বিচারক মনোজ কুমার ব্যাসকে হুমকি দেওয়া হয়। আসারামকে জামিন দেওয়ার জন্য তার ওপরে চাপ সৃষ্টি করা হয়। আদালতে পুলিশ জানায় গ্রেফতারি এড়ানোর জন্য আসারামের সমর্থকরা পুলিশকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করে।

ডিসেম্বর ২০১৩– সুরাতের ধর্ষিতা দুই মহিলার একজনের স্বামীকে কোপানো হয়। গুরুতর আহত হন তিনি।

মার্চ ২০১৪– দীনেশ ভাবচাঁদনী নামক এক ব্যক্তির ওপরে অ্যাসিড ছোড়ে দু’জন আততায়ী। আসারামের বিরুদ্ধে যাঁরা সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন তাঁদের আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন আসারামের প্রাক্তন ভক্ত দীনেশ।

মে, ২০১৪– বারো বছর ধরে আসারামের আয়ুর্বেদ চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত অমৃত চতুর্বেদীকে খুন। আসারামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন অমৃত। জানা গিয়েছে, আসারামের গুরুকুলে দুই ছাত্রের মৃত্যুর পরে আসারামের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করেন অমৃত।

জানুয়ারি, ২০১৫– আসারামের প্রাক্তন রাঁধুনি এবং আপ্তসহায়ক অখিল গুপ্তা খুন। সুরাতের দুই মহিলার ধর্ষণের ব্যাপারে আসারামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন অখিল।

ফেব্রুয়ারি ২০১৫– আসারামের প্রাক্তন চিকিৎসক রাহুল কে সচনকে কোপানো হয়। তিনিও আসারামের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষী দিয়েছিলেন।

মে, ২০১৫– আসারাম এবং নারায়ণ সাইয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ায় আরও এক প্রাক্তন ভক্ত মহেন্দ্র চাওলাকেও গুলি করা হয়। গুরুতর আহত হলেও, চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

জুলাই, ২০১৫– প্রথমে আসারামের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলেও পরে নিজের বয়ান বদলে ফেলেন এক সাক্ষী সুধা পাঠক। আদালতে তিনি বলেন, আসারামের কীর্তির ব্যাপারে তিনি কিছু জানেনই না।

জুলাই, ২০১৫– আসারামের বিরুদ্ধে আরও এক সাক্ষী কৃপাল সিংহকে গুলি করে খুন। মৃত্যুর কিছু দিন আগেই আদালতে তিনি জানিয়েছিলেন, আসারামের কয়েক জন ভক্ত তাঁর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে টাকা দিতে চেয়েছে।

২০১৬-এর মার্চে কার্তিক হালদার নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা যায়, আসারামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের খুনের পেছনে হাত রয়েছে কার্তিকের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here