২০২৪-এর ভোটে অসমে তৃণমূলের ‘মুখ’ হতে পারেন অখিল গগৈ

0
অখিল গগৈ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীকী ছবি

খবর অনলাইন ডেস্ক: ২০২১-এ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে ব্যাপক সাফল্যের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূল কংগ্রেস এখন ত্রিপুরা এবং অসমেও শক্তিশালী ভিত গড়ে তুলতে চাইছে। সেই লক্ষ্যেই বিজেপি-শাসিত অসমে ঘাসফুল ফোটাতে সমাজকর্মী অখিল গগৈকে (Akhil Gogoi) চাইছে তৃণমূল। শিবসাগরের বিধায়ক তথা রাইজোর দলের সভাপতি দাবি করেছেন, তাঁকে অসম তৃণমূলের সভাপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অখিল গগৈ বলেন, “আমি জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি আমি দু’বার কলকাতা গিয়েছিলাম এবং তাঁর সঙ্গেও দেখা করেছি। তৃণমূল চায়, আমি তাদের দলে যোগ দিয়ে অসমে দলের নেতৃত্ব দিই। আমাকে অসমে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও তাঁকে কিছু বলিনি, কিন্তু আমার দল (রাইজোর) বিজেপি-বিরোধী দলগুলিকে একত্রিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে”।

Loading videos...

গত দু’দশক ধরে সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের একজন তীব্র সমালোচক অখিল। অসমে এর বিরোধিতা করার জন্য আন্দোলন জোরদার করেছেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের জন্য তিনি গ্রেফতার হন। গত ১ জুলাই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। অখিল বলেন, বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ নির্বাচনে জেতার জন্য মানুষকে ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে।

গত মার্চে অসম বিধানসভা নির্বাচনের সময় এনআইএর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অখিল। জেল থেকে লেখা এক চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, “এনআইএ’র সদর দফতরে আমাকে এক নম্বর লকআপে আটকে রাখা হয়েছিল। একটা মাত্র নোংরা কম্বল দেওয়া হয়েছিল। ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মেঝেতে ঘুমতে হয়েছিল। আমি এই অপমানজনক আচরণের প্রতিবাদ করার পরে ওরা অন্য একটা প্রস্তাব দিল। আমাকে জানানো হয়েছিল বিজেপিতে যোগ দিলে আমি বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে পারব। মন্ত্রীও হতে পারব”।

তবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে এখনও কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেননি অখিল। শুধু জানিয়েছেন, “আমরা আগামী নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ফ্রন্টের অংশ হতে চাই”। অন্য দিকে, সম্প্রতি দিল্লি গিয়ে ২০২৪ লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে বিজেপি-বিরোধী জোট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে দেখা গিয়েছে মমতাকে। স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপির উপর চাপ বাড়াতে ত্রিপুরার পাশাপাশি তৃণমূল যে অসমকেও বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটা এই ঘটনাতেই বেশ স্পষ্ট।

খবর অনলাইন-এর অন্যান্য প্রতিবেদন পড়ুন এখানে: khaboronline.com

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন