নয়াদিল্লি: সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যন্তরমন্তরের সামনে এ বার নিজেদের বিষ্ঠা খেয়ে প্রতিবাদ জানালেন তামিলনাড়ুর কৃষকরা। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে এই পথ বেছে নিলেন বিক্ষোভকারী কৃষকদের নেতা পি আয়াকান্নু-সহ মোট দশ জন। এর পর মানুষের মাংস খেয়ে প্রতিবাদকে জোরালো করার পরিকল্পনা করছেন বিক্ষোভকারী কৃষকরা। খরার ক্ষতিপূরণের টাকা বাড়ানো, কৃষিঋণ মুকুব, তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য, কাবেরী জলবণ্টন কমিটি গড়া-সহ এক গুচ্ছ দাবিতে প্রায় দু’ মাস ধরে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন তাঁরা।

ন্যাশনাল সাউথ ইন্ডিয়ান রিভারস লিঙ্কিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট পি আয়াকান্নু। তিনি বলেন, সকালে প্ল্যাস্টিকে করে নিজেদের বিষ্ঠা সংগ্রহ করেছিলেন। তার পর সেটা খেয়ে ফেলেন। আরও বলেন, তাঁদের দাবিগুলো না মেনে কেন্দ্রীয় সরকারই তাঁদের বাধ্য করেছে এই কাজ করার জন্য। আগামী মঙ্গলবার তাঁদের প্রতিবাদ বিক্ষোভের ১০০ দিন পূর্ণ হবে। এর পর তাঁরা নগ্ন অবস্থায় মিছিল করে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

উল্লেখ্য, এই বছরের শুরুর দিকে দক্ষিণ ভারতের এক দল কৃষক অভিনব কায়দায় বিক্ষোভ দেখান। তার মধ্যে ছিল ইঁদুরের কামড়, সাপের ছোবল-সহ আরও অনেক কিছু। সেই সময় তাঁরা নিজেদের মূত্রপানের হুমকিও দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত এই দাবিতেই এই বছরের শুরুতে যন্তরমন্তরের সামনে টানা ৪১ দিন বিক্ষোভ করেন এই কৃষকরা। এর পর তাঁরা ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় তাঁরা ১৭টা মাথার খুলি আর ১৭টা হাড়-জোড়া নিয়ে ফিরে আসেন ওই একই জায়গায়। তাঁদের দাবি, এই খুলি, হাড় এগুলো মৃত কৃষকদের। খরা আর ঋণের দায়ে জর্জড়িত হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন ওই কৃষকরা।

উল্লেখ্য, মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর কৃষকরা আবার প্রতিবাদ শুরু করেন। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়  সমস্ত প্রকার কৃষিঋণ মুকুব করার। তবে তা কৃষকদের অধিগৃহীত জমির পরিমাণের নিরিখে।

২০১৬ সালের বর্ষাকে গত ১৪০ বছরের মধ্যে সব থেকে খারাপ বর্ষা আখ্যা দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। তার পরই তামিলনাড়ু সরকার খরা ঘোষণা করে। এর পর থেকেই কৃষকরা অভিযোগ করেন, এই খরা আর তার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ভরদার ফলে তাঁদের শস্যের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের দাবি এর কু প্রভাব এখনও রয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন