শ্রীনগর : জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হল লস্কর প্রধান বশির লস্করি ও তার সহযোগী। জম্মু-কাশ্মীরের ইনসপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ মনিউর খান জানান, শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে অনন্তনাগে। তিনি জানান, রাজ্য পুলিশের স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ফিরোজ দার ও ৫ পুলিশকর্মীকে হত্যা করার প্রায় ১৫ দিনের মধ্যে নিহত হল বশির। দু’ পক্ষের গুলির লড়াইয়ে মারা যান আরও দু’ জন সাধারণ মানুষও। নিহতদের মধ্যে এক জন মহিলা। নাম তহিরা বেগম, বয়স ৪৪। অন্য জন শাহবাদ আহমেদ চৌহান, বয়স ২১। পুলিশ জানায়, এঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। তা ছাড়া আহত হন দু’ জন।

রাজ্য পুলিশের প্রধান এস পি বৈদ্য বলেন, এই দুই সন্ত্রাসবাদীকে শেষ করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশবাহিনী ও নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। এই দু’ জনই এসএইচও-সহ ৬ জন পুলিশকর্মীর হত্যার জন্য দায়ী।

দয়ালগামে সন্ত্রাসবাদীদের উপস্থিতির খবর আগে থেকেই নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর কাছে ছিল। সন্ত্রাসবাদীরা স্থানীয়দের আত্মরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিল। ভোরবেলায় এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। সেখান থেকে ১৭ জনকে নিরাপদে বার করে আনা হয়। তার পরই চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয়।

বৈদ্য বলেন, সামাজিক মাধ্যমগুলো নতুন প্রজন্মকে উসকানি দেয়। তারা সন্ত্রাসবাদীদের রক্ষা করতে চেষ্টা করে। এটাই এই উপত্যকার দুর্ভাগ্য। যারা শান্তি নষ্ট করছে মানুষ তার রক্ষা করতে চেষ্টা করে। পুলিশের কাজে বাধার সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা বাহিনীর হিসেব অনুযায়ী এলাকায় প্রায় ৯০ জন সন্ত্রাসবাদী সক্রিয়। নিরাপত্তাবাহিনীর লক্ষ্য, বেছে বেছে সন্ত্রাসবাদীদের নিশ্চিন্ত ঘাঁটিগুলোতে হামলা করে তাদের প্রধানদের শেষ করা। শেষ ১৫ দিনে আট জন সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করা হয়েছে। বশিরের হত্যা তার মধ্যে সব চেয়ে বড়ো সাফল্য।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here