delhi tourture

নয়াদিল্লি: কথায় বলে রাখে কেষ্ট, মারে কে! পরিচারিকার কাজ করত সে। গৃহকর্ত্রীর অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সে দশ তলা থেকে ঝাঁপ দেয়। ভাগ্যক্রমে ন’ তলায় একটি পাখির বাসায় আটকে যায় সে। ওই ভাবে ঘণ্টাসাতেক আটকে থাকার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। আপাতত সে শক্তি বাহিনী নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হেফাজতে রয়েছে। অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

ঘটনাটি বুধবারের। ফরিদাবাদের কনিষ্ক টাওয়ারে দশ তলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ২৩ বছরের এক যুবতীর কাছে কাজ করত বিহার থেকে আসা ১৩ বছরের এক কিশোরী। দু’ বছর ধরে গৃহকর্ত্রীর অকথ্য অত্যাচার সহ্য করে গিয়েছে সে। খাটাখাটনির কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না। তা সত্ত্বেও পান থেকে চুন খসলেই জুটত বেধড়ক মার। শুধু তা-ই নয়, মাঝেমাঝেই খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হত। মেয়েটি পুলিশকে তার বয়ানে জানিয়েছে, অত্যাচার আর সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করার জন্যই সে দশ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল।

শক্তি বাহিনীর অন্যতম কর্মকর্তা ঋষিকান্ত বৃহস্পতিবার খবর অনলাইনকে জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ন’টায় এই কাণ্ড ঘটে। বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত সে ওই পাখির বাসায় আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত ওই বাড়ির অন্য বাসিন্দাদের নজরে আসে। তাকে উদ্ধার করা হয়।

sign of tortureশক্তি বাহিনীর তরফে খবর অনলাইনে মেয়েটির যে সব ছবি পাঠানো হয়েছে, তাতেই প্রমাণ হয়, নিয়মিত তার ওপর অমানুষিক অত্যাচার চলত। মেয়েটির সারা গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও পোড়া দাগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, তাকে কার্যত ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। ওই টাওয়ারের অন্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাঁরা ওই ফ্ল্যাটের মধ্য থেকে প্রায়ই কিশোরীর কান্নার আওয়াজ পেতেন।

শক্তি বাহিনীর অফিসে চিকিৎসকরা মেয়েটিকে পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, সে দীর্ঘদিন ধরে অনাহারে কাটিয়েছে।

এ দিকে ১৩ বছরের কিশোরীর ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানোর অপরাধে ২৩ বছরের ওই তরুণীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ওই তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

জানা গিয়েছে, অত্যাচারের শিকার কিশোরী এবং অভিযুক্ত তরুণী, দু’ জনেই পটনার বাসিন্দা। অভিযুক্ত তরুণীর বাবা বিহারের এক পয়সাওয়ালা ব্যবসায়ী। তাঁদের পটনার বাড়িতেই কাজ করে ওই কিশোরীর মা। সেই সূত্রেই কিশোরীটি ফরিদাবাদে তরুণীর ফ্ল্যাটে কাজ করতে এসেছিল।

ছবি সৌজন্যে শক্তি বাহিনী

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here