নয়াদিল্লি:তিন তালাক মুসলিম ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ নয়। এই প্রথা বন্ধ করলে ইসলামের ভিত্তি ধ্বসে পড়বে না। তিন তালাকের বিষয়টিকে সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘুর দ্বন্দ্ব হিসেবেও দেখা উচিৎ নয়। এটি একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে নারীর অধিকার রক্ষার বিষয়। সুপ্রিম কোর্টকে জানাল কেন্দ্র। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে মুসলিম ল বোর্ডের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেছিলেন, তিন তালাক নিয়ে যে মামলা চলছে, তা আসলে সংখ্যাগুরু ধর্ম দ্বারা সংখ্যালঘুর অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। বুধবার তার উত্তরে একথা বলেন কেন্দ্রের আইনজীবী।

আরও পড়ুন: তিন তালাক ১৪০০ বছর ধরে মেনে আসা বিশ্বাস : মুসলিম ল’ বোর্ড

মুসলিম ধর্মে বিয়ের সময় যে নিকাহনামা তৈরি হয়, সেখানে পাত্রী তিন তালাকে রাজি কি না, সে বিষয়ে তাঁর মতামত নেওয়া সম্ভব কি না বা সকল কাজিকে এই মতামত নেওয়ার ব্যাপারে মুসলিম ল বোর্ড বাধ্যা করতে পারে কি না, তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি খেহর। সিব্বল আদালতকে জানান, এ বিষয়ে সকল বোর্ড সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে উত্তর দেবে মুসলিম পাসোর্নাল ল বোর্ড।

গতকাল শীর্ষ আদালতকে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড(এআইএমপিএলবি) জানিয়েছিল, নিজেদের স্বার্থ এবং সম্মান রক্ষার্থে বিবাহের সময় নিকাহনামায় মুসলিম মহিলারা চুক্তিবদ্ধ হন। অতএব বিবাহের পাশাপাশি নিজের স্বামীকে তালাক দেওয়ার এবং তালাকের ক্ষেত্রে স্বামীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের খোরপোষ আদায়ের অধিকার রয়েছে তাঁদের। নিকাহনামায় স্বাক্ষরের সময় মুসলিম মহিলাদের তিন তালাকে ‘না’ বলার অধিকার আছে কিনা, বুধবার তা জানতে চাওয়া হয়েছিল  মুখ্য বিচারপতি সহ পাঁচ বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চের পক্ষ থেকে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে সায়রা বানু নামে এক মুসলিম মহিলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা দেয় এআইএমপিএলবি। তাতে বলা হয়েছিল ‘মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বেশি থাকায় শরিয়ৎ অনুযায়ী তালাকের অধিকার পুরুষদেরই প্রাপ্য’।

তিন তালাক প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালতে শুনানির শেষ দিন ছিল বুধবার। আগামী জুনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করার কথা সুপ্রিম কোর্টের।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন