ওয়েবডেস্ক: করোনাভাইরাস লকডাউনের (Coronavirus lockdown) মধ্যেই চাকরি গিয়েছে ত্রিপুরার (Tripura) প্রায় ১০ হাজার শিক্ষকের। তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পিওন, নাইট গার্ড,মালি, রাঁধুনি এবং বিভাগীয় ক্লার্ক পদে নিয়োগ করতে চাইছে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার।

মঙ্গলবার এই আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের (Biplab Deb) সরকার। পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট এবং আন্ডার-গ্র্যাজুয়েট শিক্ষাগত যোগ্যতার ওই বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের অপ্রত্যাশিত ভাবে অপেক্ষাকৃত নীচুস্তরের পদে নিয়োগের আবেদন জানানো হয় বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

কী কারণে বরখাস্ত?

২০০৯, ২০১২ এবং ২০১৪ সালে রাজ্যে স্কুল শিক্ষক নিয়োগ করে ত্রিপুরার বামফ্রন্ট সরকার। কিন্তু ওই নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের হয় ত্রিপুরা হাইকোর্টে। সেই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। শুনানির পর রায় ঘোষণায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি বাতিল করে দেয় দুই আদালত। চাকরি চলে যায় ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের।

তবে পরবর্তীতে বামফ্রন্ট সরকার শিক্ষাকর্মীর পদ তৈরি করে এঁদের চাকরিতে বহাল রেখে স্থগিতাদেশ চায়। গত ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট বলে, অ্যাডহক-ভিত্তিতে ওই শিক্ষকদের বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে। যে সময়সীমা ৩১ মার্চ শেষ হয়। এরই মধ্যে রাজ্যে পালাবদল হলে সুপ্রিম কোর্টের কাছে সময় চায় বিজেপি সরকার। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, এ ব্যাপারে আর কোনো আবেদন শোনা হবে না।

সে সময় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ অবশ্য বলছেন, “এঁদের চাকরিতে বহাল রাখার জন্য কোর্টের কাছে আবেদন করেছিল রাজ্য সরকার। এর থেকে বেশি তাঁদের আর করণীয় কিছু ছিল না”।

বর্তমানে রাজ্যের সিদ্ধান্ত

এ ভাবেই দীর্ঘ ঘটনাক্রমে চাকরি খোয়াতে হয় এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষককে।

রাজ্য সরকার এখন স্থির করেছে, বরখাস্ত শিক্ষকদের পুরনো পদ এবং সুবিধা ফেরানো না হলেও তাঁদের পিওন, নাইট গার্ড, মালি, রাঁধুনি পদে নিয়োগ করা হবে।

তাঁদের কোনো আইনি অধিকার না দেওয়া হলেও অঙ্গনওয়াড়ি সুপারভাইজার, নিম্ন বিভাগের কেরানি, পঞ্চায়েত সচিব, কৃষি সহায়ক, জুনিয়র স্টোর রক্ষক এবং মৎস্য সহায়ক হিসাবে ১০,৬১৮টি শূন্য পদ শনাক্ত করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের পক্ষে সরকারের প্রস্তাবিত গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগে সম্মতি জানানো হলেও পুরনো পদের সুবিধা দাবি করা হয়। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে তা খারিজ করা হয়। এ ব্যাপারে ওই শিক্ষকদের নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টিকেই তুলে ধরেন রাজ্যের আইনজীবী মনিন্দর সিং।

রাজ্য সরকারের একটি আবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়,নতুন পদে নিয়োগ করা হলেও বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের অতীতের কোনো সুবিধা আর দেওয়া হবে না বা তাঁদের কোনো আইনি অধিকারও দেওয়া হবে না। তবে সুপ্রিম কোর্টে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দেশ দেয়নি।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন