BJP Governor

আগরতলা: ‘সপ্তম বেতন কমিশন কেন চাই?’ শীর্ষক নির্বাচনী পুস্তিকার মলাটে রাজ্যপাল তথাগত রায়ের ছবি জুড়ে দিয়ে বিতর্কে জড়াল ত্রিপুরা বিজেপি। গত বৃহস্পতিবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনী প্রচারে এসে সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে। শাসকদলকে ‘উচ্ছেদ’ করতে হলে ভোট পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের হাত না করতে পারলে লাভ হবে না বুঝেই কি বিজেপির তরফে বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে এত ঢক্কানিনাদ চলছে? এমনই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

রাজ্যের শাসক দল সিপিএম এ বিষয়ে আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছে নয়াদিল্লিতে গিয়ে। সিপিএমের তরফে নীলোৎপল বসু সাক্ষাৎ করেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক ওম প্রকাশের সঙ্গে। নীলোৎপলবাবু তাঁর কাছে রাজ্যপাল-ইস্যুর পাশাপাশি বিজেপির একাধিক নিয়ম-বহির্ভূত প্রচারের কৌশল নিয়ে অভিযোগ করেন। তবে রাজ্যপাল-ইস্যুতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ আবেদন জানান তিনি।

ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগতবাবু বিতর্কিত মন্তব্য করতে শুরু করেন। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি বলেন,  “ত্রিপুরায় নতুন পাতা রেল লাইনে নাশকতার চেষ্টা চলছে। জায়গায় জায়গায় ফিশপ্লেট খুলে নেওয়া, এমনকি রেললাইন কাটার চেষ্টাও হয়েছে।” টুইটারেও তিনি এ কথা জানান। তার পর থেকেই বামেরা প্রতিবাদ শুরু করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথাগতবাবু নিজের অবস্থান বদলাননি। তিনি উপর্যুপরি বিতর্কিত মন্তব্য করতেই থাকেন।

এর পরই প্রচারে আসে বিজেপির ওই পুস্তিকা। এই প্রচার পুস্তিকাটি যত না মানুষের হাতে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে তার থেকে অনেক বেশি প্রচারের মাধ্যম হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ত্রিপুরা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় একজন রাজ্যপালের ছবি কী ভাবে কোনো এক রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচার পুস্তিকায় উঠে এল, তা নিয়ে তদন্ত করা দরকার। রাজ্যপাল রাজ্যের সাংবিধানিক কর্মকর্তা, রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় প্রধান তিনি কী ভাবে ঠাঁই পেলেন কেন্দ্রের শাসকদলের রাজনৈতিক প্রচারে?”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন