#Tripura #Bangladesh #BJP #Cpim
jayanta mondal
জয়ন্ত মণ্ডল

ভোট মিটে গেছে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু উৎকণ্ঠার অবসান হতে সময় লাগবে আরও প্রায় সপ্তাহ দুয়েক। স্বাভাবিক ভাবে রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক তো বটেই ত্রিপুরার আম-আদমিরও নেই স্বস্তি। তবে শুধু এ দেশ নয়, প্রতিবেশী বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে সেই টানাপোড়েন রোগ- ত্রিপুরায় ফিরছে কী বামফ্রন্ট না কি আচমকা উত্থানেই বাজিমাত করবে বিজেপি? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তরের জন্যই উদগ্রীব হয়ে রয়েছে বাংলাদেশও। কিন্তু কেন?

একেবারে প্রথমেই চলে আসে ঐতিহাসিক এবং ভৌগলিক কারণ। ১৯৪৭ অথবা ১৯৭১-এর বিবিধ ঐতিহাসিক উত্থান-পতনের সাক্ষী এই দুই জনপদ। এবং সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তীব্র আবেগ। যে কারণে পাশের জনপদে কী ঘটতে চলেছে, তা নিয়ে উৎসুক্য বরাবরই থাকে দু’তরফেই।

দ্বিতীয় কারণ, বিশ্ব রাজনীতির অভিমুখ। ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আজন্মের। ১৯৭১-এ স্বাধীন বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করার মুহূর্ত থেকেই সেই সুসম্পর্কের বুনন অটুট রয়েছে। কখনও ইলিশ আবার কখনও বা তিস্তার জলবণ্টন, সীমান্ত রক্ষা বা সীমান্তে চোরাচালান নিয়ে দু’দেশের সেই সুসম্পর্কের মাঝে সাময়িক গরম হাওয়া সেঁধিয়ে গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দুই বাংলা তো বটেই, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত একাত্ম হতে সময় নেয় না খুব একটা বেশি। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক অবস্থানও দু’দেশকে আরও বেশি কাছাকাছি নিয়ে চলে এসেছে।

তবে এ সবের ঊর্ধ্বে রয়েছে ব্যবসায়িক সম্পর্ক। ভারতের অঙ্গরাজ্য হলেও ত্রিপুরা বেশ কিছু পণ্যের জন্য নির্ভরশীল বাংলাদেশের উপর। মাঝারি ও বড়ো মাপের শিল্প স্থাপনের সমস্ত রকমের সম্ভাবনা রয়েছে ত্রিপুরায়। কারণ পর্যাপ্ত শ্রমিক থেকে শুরু করে স্বাভাবিক সম্পদের অভাব নেই রাজ্যে। কিন্তু প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং তার সময়োপযোগী বাস্তবায়ন। এ বারের ভোটে জিতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা চাইবে শিল্পে জোর দিতে। কারণ সেই একটাই-সময়ের চাহিদা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’বার প্রচারে গিয়ে ত্রিপুরার মানুষকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, বামফ্রন্ট ক্ষমতায় ফিরলে তারাও চাইবে সেই স্বপ্নকে সাকার করতে। নইলে মানুষের চাহিদাকে দমন করা মুশকিল হবে।

আরও পড়ুন: এত আঁটোসাঁটো নিরাপত্তাতেও কমেনি ত্রিপুরার ভোটের হার, ঠিক যে কারণে

বাংলাদেশের একটি সূত্র বলছে, এই মুহূর্তে ত্রিপুরা প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ সিমেন্ট আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ থেকে। এর মূল কারণ পরিবহণের সুবিধা। যে কারণে পরিকাঠামো শিল্প ত্রিপুরায় ডালপালা বিস্তার করতে শুরু করলে বাংলাদেশ তাতে আরও বেশি করে অংশ নিতে পারবে। বহু দিন থেকেই শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের কয়েকটি বাণিজ্যিক সংস্থা ত্রিপুরায় সিমেন্ট কারখানা গড়ে তোলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

এরই পাশাপাশি রয়েছে পোশাক শিল্প। বাংলাদেশ এই একটা শিল্পকে আগলে ধরে দেশের অর্থনীতিকে যে পরিমাণ অক্সিজেন জুগিয়েছে, তার বিস্তার ঘটাতে পারে ত্রিপুরাতেও। সঙ্গে থাকবে সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা মেটাতে বড়ো আকারের শিল্পোদ্যোগ।

এবং সর্বশেষ কারণ অবশ্যই আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। ভারতীয় রাজনীতিতে বর্তমানে একটি বহু আলোচ্য বিষয় অনুপ্রবেশ। সীমান্ত সুরক্ষা অটুট রেখেও কী ভাবে অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে বারবার বৈঠকের কারণ হয়ে উঠেছে। ত্রিপুরায় যে-ই আসুক, সেই সরকারের আগামী মনোভাব এ বিষয়ে কী হতে পারে, সেটা জানার তাগিদও স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন