tripura election

ওয়েবডেস্ক: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভোট পড়ার নিরিখে এ বারের নির্বাচন তৃতীয় স্থান দখল করতে চলেছে। কারণ এর আগে ২০১৩ সালে এই ভোটের হার ছিল ৯৩.৫৭ আবার ২০০৮-এ ছিল ৯১.২২ শতাংশ। সেই সারণিতেই তৃতীয় স্থান ধরে রাখতে পারল ২০১৮-র নির্বাচন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সারা দেশের মধ্যে ব্যতিক্রমী অবস্থানে থাকা ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে ভোট মেশিনারির যে অভিযোগ উঠত, তার কতটা সত্যি? নিরাপত্তা ব্যবস্থা এত আঁটোসাঁটো করার পরেও কী ভাবে পড়ল প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট?

১৮ ফেব্রুয়ারি পার হয়ে ভোট শুরু হয়ে গড়িয়েছিল ১৯ ফেব্রুয়ারিতে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য বলছে, ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এ বারে ভোট পড়েছে ৮৯.৮ শতাংশ। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারদের কেউ কেউ এখনও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করতে পারেননি। তার উপর রয়েছে পোস্টাল ব্যালট। সব মিলিয়ে এ বারেও যে রাজ্যে ভোটের হার ৯০ শতাংশে পৌঁছে যাবে, সে বিষয়ে কোনো মহলেই সন্দেহ নেই। কিন্তু এ বিশাল পরিমাণ ভোটে পড়ায় দু’পক্ষেরও আশায় বুক বাঁধার কারণ কী, এমন প্রশ্নও উঠছে।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর বলেছেন, ত্রিপুরায় কোনো নির্দিষ্ট তত্ত্ব কাজ করে না। রাজ্যে বেশি মাত্রায় ভোট পড়ার একটা ইতিহাস রয়েছে। সেটারই ধারাবাহিকতা বজায় রইল এ বারের নির্বাচনে। রাজ্যের মানুষ বরাবরই সিপিএমকে উজাড় করে সমর্থন জানিয়েছেন।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির আচমকা উত্থানে শাসক-বিরোধিতার বহিপ্রকাশ ঘটে যাননি তো মানুষের রায়ে?  এমন প্রশ্নের উত্তরে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, মানুষ কেন একটা গণতান্ত্রিক, গরিব-দরদি এবং অ-স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে যাবেন?

অন্য দিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেবও সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছেন, সর্বত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের রায় বিজেপির পক্ষেই গিয়েছে।

তবে সারা দেশের তুলনায় ত্রিপুরায় ভোটের হার বরাবর বেশি থাকলেও দুর্নাম পোহাতে হয়েছে রাজ্যের শাসক বামফ্রন্টকে। এ বারে তাই নির্বাচন কমিশনের তরফে নেওয়া হয়েছিল যাবতীয় সুরক্ষা কবচ। তবুও যে কে সেই। কেন বজায় রইল ‘ঐতিহ্য’?

গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক অখিলরজ্ঞন দত্ত টাইসম অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এর নেপথ্যে থাকতে পারে তিনটি সম্ভাব্য কারণ। প্রথমত, শাসক দল নিজের সমর্থনের ভিত অটুট রাখতে পেরেছে। দ্বিতীয়ত, এই বিশালবপুর নির্বাচনী প্রচারেও বিজেপি মানুষকে কাছে টানতে ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ কারণ হতে পারে, কংগ্রেস নিজের ভোট ব্যাঙ্ক অক্ষত রাখতে পারেনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here