মোদীকে রেড কার্পেট স্বাগত জানাতে তৈরি ট্রাম্প প্রশাসন, এইচ ১বি ভিসা নিয়ে কথার সম্ভাবনা নেই

0
266

ওয়াশিংটন: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে রেড কার্পেটে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মোদী। বৈঠকের মধ্যেই মোদীর সঙ্গে নৈশভোজে মিলিত হবেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসন জানাচ্ছে, প্রেসিডেন্টের মসনদে বসার পর এটিই কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম ‘ওয়ার্কিং ডিনার’।

রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছোবেন মোদী। মার্কিন মুলুকে এটি মোদীর চতুর্থ সফর। সোমবার দুপুরে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করবেন মোদী। এরপর সারা সন্ধ্যা বৈঠক চলার কথা দুই রাষ্ট্রপ্রধানের।

গত দু’মাস ধরে তৈরি হচ্ছে আসন্ন মোদী-ট্রাম্প বৈঠকের বিষয়বস্তু। মোদীর এই মার্কিন সফরকে স্মরণীয় করে তুলতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের এক আধিকারিকের মতে, “সব দিক থেকেই স্মরণীয় করে রাখা হবে এই সফর। জোর কদমে তৈরি হচ্ছে হোয়াইট হাউস।”

ক্ষমতায় আসার পরেই ভারতকে ‘বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন ট্রাম্প। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে সে ব্যাপারেও বলেছিলেন তিনি।

কী কী বিষয়ে আলোচনা হতে পারে মোদী ট্রাম্পের?

মোদীর সফরের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের নিয়ে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক। ভারতকে প্রতিরক্ষাসামগ্রী দেওয়া ছাড়াও আলোচনায় উঠে আসে এইচ ১বি ভিসা, পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আরও বেশ কয়েকটি বিষয়। তিনি বলেন, “ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বদ্ধপরিকর। আমরা মনে করি শক্তিশালী ভারত, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও ভালো ব্যাপার। গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সমঝোতা তৈরি হয়েছে ট্রাম্প সেটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে গত বছর ভারতকে প্রধান সঙ্গী ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, এই বৈঠকের পর সেটিই আরও উন্নত হবে।”

ভারতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কী মনোভাব সেই সঙ্গে ট্রাম্প এবং মোদীর বৈঠকে কী উঠে আসতে পারে, সে ব্যাপারে বলেন ওই আধিকারিক।

প্রতিরক্ষা চুক্তি

ওই আধিকারিক বলেন, ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি অনেক বেড়েছে। ২০০৮ থেকে ১৫০০ কোটি ডলারের সামরিক চুক্তি হয়েছে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। এর পাশাপাশি দু’জনের আলোচনায় উঠে আসবে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কর্মসূচি, তা-ও বলেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কি কোনো প্রভাব পড়বে পাক-মার্কিন সম্পর্কে?

ওই আধিকারিক বলেন, ভারতের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর, তেমনই পাকিস্তানকেও আমরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী মনে করি। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা ঝামেলার জন্য আমরা চিন্তিত। এই সমস্যা মিটিয়ে ফেলার জন্য দু’দেশকেই সরাসরি আলোচনায় বসানোর জন্য আমরা আহবান জানাচ্ছি। ভারত এবং পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের চরিত্রটি আলাদা। কিন্তু দু’টো দেশের সঙ্গেই আমরা সম্পর্ক আরও বাড়াতে চাই।

আফগানিস্তানে ভারতের উপিস্থিতিকে কোন চোখে দেখে যুক্তরাষ্ট্র

আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল করার জন্য ভারত যে ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা খুবই প্রশংসাব্যঞ্জক। আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ ভারতের উপস্থিতিকে খুব ভালো ভাবে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন ওই আধিকারিক।

উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে ভারতের নীতি

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জ যে সব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, ভারত সেটা সমর্থন করেছে। এটা খুবই ভালো ব্যাপার বলে জানান ওই আধিকারিক।

এ ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মানুষ সঙ্গে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার কথা বলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায়, ট্রাম্প এবং মোদীর এত অনুগামী, সে প্রসঙ্গও ফুটে ওঠে ওই আধিকারিকের কথায়। তিনি বলেন ট্রাম্প এবং মোদীর মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ে আলোচনা হলেও, ২২টি ড্রোন বিক্রি করার ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি না হওয়ারই ইঙ্গিত দেন তিনি। ২২টি ড্রোন বিক্রি করার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের এখনও সম্মতি পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

তবে সন্ত্রাসবাদ, চিন, পাকিস্তান, প্রতিরক্ষার ব্যাপারে আলোচনা হলেও, এইচ ১বি ভিসা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here