ভোপাল : স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অন্যতম মুখ হয়ে উঠল আট বছরের তুষার। মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটের কুমহারি গ্রামের বাসিন্দা তুষার ‘দিব্যাঙ্গ’ শিশু।  সে মূক ও বধির। সরস্বতী শিশু বিদ্যা মন্দিরের ছাত্র সে। বলতে বা শুনতে না পারলেও পরিচ্ছন্নতার জ্ঞান তার স্পষ্ট। আর সেই জ্ঞান আর অভ্যাসকে কাজে লাগিয়েই সে তার গ্রামকে পরিচ্ছন্ন করে তুলেছে। সে গ্রামের প্রত্যেককে খোলা জায়গায় মলত্যাগের অভ্যাস থেকে বের করে এনেছে। স্বভাবতই এই কাজে গর্বিত তার মা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

 

মুক্ত স্থানে মল ত্যাগ বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে পড়ে তুষার। তার পর গ্রামের প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি গিয়ে সিটি বাজিয়ে সবাইকে ডেকে তোলে। তার পর সে তার হাতের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সকলকে বোঝানো চেষ্টা করে। বলে, খোলা জায়গায় মল ত্যাগ অস্বাস্থ্যকর।

এই ভাবে সে তার গ্রামের পরিবেশকে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার করে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এই মূক ও বধির শিশুর কথা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত ছোটো হয়েও তুষার এই বিরাট ব্যাপারটা অনায়াসেই বুঝতে পেরেছে। আর সে সংকল্প পালনের মতো এই দায়িত্ব পালন করছে। এ থেকেই পরিষ্কার, স্বচ্ছতার ভাষা বুঝতে বয়স বা বিশেষ কোনো শিক্ষার দরকার হয় না। স্ত্রী-পুরুষ, ছোটো-বড়ো সকলেরই পরিচ্ছন্নতা, স্বচ্ছতা দরকার। আর তার জন্য প্রত্যেকেরই উচিত সঠিক ভাবে সচেতন হওয়া।

তুষারের মা বলেন, তাঁদের ছেলে বোবা-কালা হওয়া সত্ত্বেও গ্রামের মানুষকে সচেতন করে চলেছে। এর জন্য তিনি খুবই গর্বিত। ছেলের চিকিৎসা করার সামর্থ তাঁদের নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি, তিনি যেন দেশ বা বিদেশ থেকে ছেলের চিকিৎসা করানোর জন্য সাহায্য করেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানও তুষারের জন্য গর্ব অনুভব করেছেন।

তুষারের স্কুলের প্রধান শিক্ষক রত্নেশ ত্রিপাঠী বলেছেন, তুষার এই অভিযানকে প্রথম থেকেই অন্য শিশুদের থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। গ্রামের লোকজনকে উৎসাহিত করেছে। তার জন্য খেটেছে। গ্রামবাসীও তার কথা মেনে নিয়েছে। নিজেদের অভ্যাস বদলেছে। খোলা জায়গায় মলত্যাগ বন্ধ করে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here