bhangar

ওয়েবডেস্ক: ২৫ মে তুতিকোরিনের স্টারলাইট কপার কারখানা হঠাও-এর ডাক দিয়েছিল সিপিএমআই (এমএল) রেডস্টারের সাধারণ সম্পাদক কে এন রামচন্দ্রন। সারা দেশ দেখেছে, দলমত, রাজনীতির ঊর্ধে উঠে গর্জে ওঠা সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পরে স্টারলাইট নিয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার এবং সংস্থা কর্তৃপক্ষও। বিগত দু’দশকের বেশি সময় ধরে চলা একটা নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন কিন্তু চুড়ান্ত সার্থকতার পথ দেখিয়েছে তুতিকোরিনে। হ্যাঁ, এ কথা ঠিক, ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল আর পাঁচটা জনভিত্তিক প্রতিবাদের আকারেই। কিন্তু ক্রমে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল রাজনৈতিক রং। ঠিক যে ভাবে গণবিপ্লবী সিপিএমআই (এমএল) রেডস্টারের নেতারা সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী মানুষকে সঙ্ঘবদ্ধ করার কাজ শুরু করেছিল। যে দলের নেতা অলীক চক্রবর্তীকে নিয়ে এখন বঙ্গরাজনীতিও তোলপাড়।

ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের কয়েক দশক পরেও মূল স্রোত থেকে একাধিক উপস্রোতের ধারা বয়ে চলেছে দেশজুড়ে। স্বাভাবিক ভাবেই সিপিএমআই (এমএল) রেডস্টার নিয়ে ইতিহাস লেখার কাজ অত সহজ নয়। কিন্তু প্রায় একই সময়ে বিস্ফারিত হওয়া দু’টি গণআন্দোলনের চরমতম পর্যায় যেন কোনো এক কারণে মিলিয়ে দিল তুতিকোরিনের সঙ্গে ভাঙড়কে। দু’দশক ধরে চললেও আগামী ২২ মে-র মতো দুর্ভাগ্যজনক পরস্থিতির সম্মুখীন আগে হতে হয়নি তুতিকোরিনের স্টারলাইট আন্দোলনকে। পুলিশের গুলিতে দু’দিনে ১১ জনের মৃত্যুর মতো ঘটনার সম্মুখীন তো হতে হয়নি আগে। আন্দোলন কোন উচ্চতায় পৌঁছলে, বন্দুকের নলের সামনে বুক পেতে দিতে পারে নিরস্ত্র প্রতিবাদী? দেখিয়ে দিল তুতিকোরিন। আর ভাঙড়?

পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পকে ঘিরে মানুষের মনে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। প্রাণ গিয়েছে একাধিক। এক ২০১৭-র জানুয়ারিতে প্রাণ গিয়েছিল মফিজুল খানের। বাদ পড়েনি শিশুও। এ বছরের ১১ মে মিছিলে অংশ নিয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয় হাফিজুল মোল্লার। নতুনহাট, খামারআইট বা মাছিভাঙার মানুষের কাছে কয়েক বছর তো গুলি-বোমার শব্দ যেন রোজনামচা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা না হলে কি আর মাছিভাঙা গ্রামের ফাতেমা বিবি গুলি বিদ্ধ হন!

সব মিলিয়ে ভাঙড়ে বার বার উঠে এসেছে অলীকের নাম। পঞ্চায়েত ভোটের আগেই তিনি নির্দল প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। অভিযোগ, শাসক দলের বাধা পেয়ে তাঁর প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা করেন হোয়াটসঅ্যাপে। যে মামলা হাইকোর্টে গড়ালে সেখানেও মিলে যায় স্বীকৃতি। হাজার প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে আট জনের মধ্যে পাঁচ প্রার্থী জয়লাভও করেছেন। আর তার পরই অলীকের গ্রেফতারি। অলীকের আইনজীবীর কথায়, তিনি আলসারে ভুগছেন। যা শুনে বারুইপুর আদালতের বিচারক তাঁর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। সে নিয়ে অবশ্য অনেক নাটকই হয়েছে। তবে পর্দা পড়তে যে ঢের বাকি, তা বলে দিয়েছে স্থানীয় মানুষ। তাঁর গ্রেফতারির পর থেকেই যেন ভাঙড়ের  জমি, জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটিতে মাথার সংখ্যা আরও বাড়ছে।

হয়তো বা তুতিকোরিনের মতো বুক পেতে দেওয়া প্রতিবাদীর সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে আড়ালে। কারণ, তুতিকোরিন থেকে ভাঙড় তোলপাড় করা এই বামপন্থী দলটি সশস্ত্র বিপ্লবে বিশ্বাসী নয়। আঁচ পাচ্ছে বোধহয় শাসনযন্ত্র?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here